সপ্তাহান্তেই আমেরিকা-ইরান চুক্তি, যুদ্ধ কি তবে শেষের পথে?

অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবহে শান্তির আলো দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে তাদের একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে এবং চলতি সপ্তাহান্তেই ইউরোপে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর হতে পারে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, সম্ভাব্য বড় সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে এসে তেহরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি বড় সমাধানসূত্র বের করা হয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে উপস্থিত না থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সকে আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব দিয়েছেন। মূলত দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা ও পারমাণবিক বিতর্ককে পাশ কাটিয়ে কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে দুই দেশের এই সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী খোলার সম্ভাবনা ও বিশ্ববাজারের স্বস্তি
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। এর ফলে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া দীর্ঘদিনের চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেবে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে এই জলপথ বন্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল, তা এই চুক্তির মাধ্যমে দূর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তেহরানের আপত্তি এবং চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ধোঁয়াশা
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আশাবাদের বিপরীতে একদম ভিন্ন সুর শোনা গেছে তেহরানের কণ্ঠে। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন যে এখনও কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছায়নি তারা। তাদের অভিযোগ, আলোচনার বেশিরভাগ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও ওয়াশিংটন শেষ মুহূর্তে অতিরিক্ত দাবি ও নতুন নতুন শর্ত জুড়ে দিচ্ছে। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। এমতাবস্থায় নির্ধারিত সপ্তাহান্তে আদৌ এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে এখনও সংশয় রয়ে গেছে।