মায়ের অদম্য লড়াই আর ছেলের জেদ! জাতীয় ক্যারাটেতে সোনা জিতে ইতিহাস বাংলার সৌম্যজিতের

মায়ের অদম্য লড়াই আর ছেলের জেদ! জাতীয় ক্যারাটেতে সোনা জিতে ইতিহাস বাংলার সৌম্যজিতের

আর্থিক অনটন ও হাজারো প্রতিকূলতাকে পিছনে ফেলে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর এক অনন্য নজির গড়লেন পূর্ব বর্ধমানের রায়না ব্লকের বুজরুকদিঘি গ্রামের যুবক সৌম্যজিৎ বোস। ওড়িশার ভুবনেশ্বরে অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় অল ইন্ডিয়া জেকেএ ক্যারাটে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ একটি স্বর্ণ ও একটি ব্রোঞ্জ পদক জয় করে তিনি শুধু নিজের জেলার নয়, সমগ্র বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক মায়ের নিঃস্বার্থ ত্যাগ ও নিরলস সংগ্রামের এক মর্মস্পর্শী কাহিনী।

দারিদ্র্যকে হার মানানো অদম্য জেদ

সৌম্যজিতের এই জয়ের মূল কারিগর তাঁর মা মুনমুন দেবী। পেশায় একজন সাধারণ পোশাক বিক্রেতা হয়েও তিনি সংসারের হাড়ভাঙা খাটুনি এবং চরম আর্থিক সংকটকে ছেলের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি। নিজের সামান্য উপার্জন থেকে তিল তিল করে অর্থ জমিয়ে তিনি ছেলের প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় যাতায়াতের খরচ জুগিয়েছেন। মায়ের এই নিঃশব্দ আত্মত্যাগই সৌম্যজিতের মানসিক শক্তিকে আরও দৃঢ় করেছে, যার চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটেছে জাতীয় স্তরের এই কঠিন প্রতিযোগিতার মঞ্চে।

ভুবনেশ্বরের কিট (KIIT) ইউনিভার্সিটির ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় দেশের ১৩টি রাজ্য থেকে প্রায় ৬০০ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিলেন। এত বিশাল সংখ্যক প্রতিযোগীর মধ্যে নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে জোড়া পদক ছিনিয়ে নেন সৌম্যজিৎ। এই প্রতিযোগিতায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানের প্রখ্যাত সাতোসি তাকাহাসি সিহান সেনসাই। স্থানীয় প্রশিক্ষক সেখ ইসমাইল সেনসাইয়ের নিবিড় তত্ত্বাবধানে সৌম্যজিতের এই সাফল্য প্রমাণ করে যে সঠিক দিকনির্দেশনা ও একাগ্রতা থাকলে যেকোনো বাধাই অতিক্রম করা সম্ভব।

আগামীর সম্ভাবনা ও অনুপ্রেরণা

সৌম্যজিতের এই সাফল্য স্থানীয় স্তরে খেলাধুলার প্রসারে এক ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে তাঁর এই ক্রীড়া-সাফল্য মামা প্রবীর সরকার সহ পুরো পরিবারকে গর্বিত করেছে। পাশাপাশি, এই জয় এলাকার অন্যান্য প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীদের কাছে এক বিশাল অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে এই আত্মবিশ্বাসকে পাথেয় করেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চান বাংলার এই ক্যারাটে রত্ন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *