চিনের অন্ধ অনুকরণ নয়, ভারতকে খুঁজতে হবে নিজস্ব পথ!

চিনের অন্ধ অনুকরণ নয়, ভারতকে খুঁজতে হবে নিজস্ব পথ!

অর্থনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চিনের মডেল হুবহু অনুকরণ করা ভারতের জন্য কখনোই আদর্শ কৌশল হতে পারে না। ‘জিরোধা’-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা নিখিল কামাথকে এমনই পরামর্শ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী সংস্থা জেনারেল আটলান্টিকের কো-প্রেসিডেন্ট মার্টিন এসকোবারি। তাঁর মতে, চিনের মতো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুবিধা বা পরিকাঠামোগত আগ্রাসন ভারতের নেই। তাই ভারতকে তার নিজস্ব ঐতিহ্য, বৈচিত্র্য এবং আর্থ-সামাজিক জটিলতার ওপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি কৌশল বা পথ তৈরি করতে হবে।

অর্থনীতির ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও নিজস্ব রণকৌশল

চিনের অভাবনীয় অর্থনৈতিক রূপান্তরের মূল ভিত্তি ছিল ব্যাপক শিল্পায়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদন। নিখিল কামাথের মতে, প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচনের চাপ না থাকায় চিন অনায়াসেই চল্লিশ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারে, যা ভারতের মতো গণতান্ত্রিক দেশের পক্ষে কঠিন। এসকোবারি এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে জানান, চিনের ‘কপি-পেস্ট’ মডেল ভারতে কাজ করবে না। তবে তিনি ভারতের ধারাবাহিক অগ্রগতির অভিমুখ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। টানা এক দশক ধরে ৮ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দিক। নিখিল কামাথও ভারতের বাজারের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা রেখে জানিয়েছেন যে, এই দেশ নিশ্চিতভাবেই একসময় ১০ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত হবে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগেও তিনি মূল্যায়ন ও ব্যবসায়িক সুরক্ষার ওপর ভিত্তি করে আইটি এবং ব্যাঙ্কিং খাতে বিনিয়োগের পক্ষপাতী।

গ্লোবাল কো ম্পা নি তৈরির চ্যালেঞ্জ ও অভ্যন্তরীণ বাজারের ফাঁদ

পর্যাপ্ত মূলধন এবং এআই-প্রশিক্ষিত বিপুল দক্ষ মানবসম্পদ থাকা সত্ত্বেও ভারত কেন বিশ্বমঞ্চে বড় মাপের কোনো ‘গ্লোবাল কো ম্পা নি’ তৈরি করতে পারছে না, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের এক আক্ষেপ রয়েছে। এসকোবারি এর প্রধান কারণ হিসেবে ‘অভ্যন্তরীণ বাজারের অভিশাপ’-কে দায়ী করেছেন। ১৩০ কোটি মানুষের এই বিশাল বাজার একদিকে যেমন আশীর্বাদ, অন্যদিকে তেমনই এক বড় ফাঁদ। এই বিশাল দেশীয় বাজার ভারতীয় কো ম্পা নিগুলোকে একটি আরামদায়ক বৃত্তে বা ‘কমফোর্ট জোন’-এ বন্দি করে রাখে, ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে গিয়ে ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা তৈরি হয় না। তবে এই অচলাবস্থা কাটানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। কোনো একটি ভারতীয় স্টার্টআপ যদি সাহস করে বিশ্বমঞ্চে এই বাধা ভেঙে সফল হতে পারে, তবে তা একটি ‘রোল মডেল এফেক্ট’ তৈরি করবে এবং বাকি ভারতীয় কো ম্পা নিগুলোকেও গ্লোবাল হওয়ার সাহস জোগাবে। এর ফলে আগামী দিনে ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে এক বড়সড় আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *