প্রেমের প্রস্তাবে ‘না’, চলন্ত বাসে কিশোরী খুন, যুবকের যাবজ্জীবন সাজা!

পশ্চিমবঙ্গের কাটোয়ায় এক চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক খুনের ঘটনায় দোষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। শুক্রবার কাটোয়া ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টের বিচারক রুদ্রপ্রসাদ রায় এই রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি, অপরাধী ইজাজুল শেখ ওরফে বাবুকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা কার্যকর হওয়ার পর কাটোয়া মহকুমা আদালতে এটিই প্রথম কোনো মামলার রায়দান, যা আইনি প্রক্রিয়ার দ্রুততার ক্ষেত্রে একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
কী ঘটেছিল সেই ভয়াবহ দিনে
২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর কেতুগ্রামের কুমোরপুর এলাকার একটি যাত্রীবাহী বাসে এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আরসিদা খাতুন ওরফে জ্যোতি (১৫) তার মাসির বাড়ি থেকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বাসে করে নিজের বাড়ি ফিরছিল। বাসটি কুমোরপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাড়ার পর প্রায় এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই ধারালো অস্ত্র বের করে ওই কিশোরীর গলা কেটে দেয় প্রতিবেশী যুবক ইজাজুল। বাসের যাত্রীদের চিৎকারে চালক গাড়ি থামিয়ে দিলে, রক্তমাখা ছুরি হাতে পেছনের দরজা দিয়ে নেমে চম্পট দেয় সে। পরবর্তীতে পুলিশ, স্নিফার ডগ ও ড্রোন ব্যবহার করে দিনভর চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে ধানখেতের জলকাদা থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহতের মাসির দায়ের করা এফআইআর এবং দীর্ঘ শুনানিতে মোট ৩৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে গোটা বিচার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে স্পষ্ট যে, কিশোরীর তরফ থেকে প্রেমের প্রস্তাবে বারবার সাড়া না পাওয়ার চরম আক্রোশ ও ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি অপরাধপ্রবণতা, মানসিক বিকৃতি এবং নারীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বা সম্মতির প্রতি চরম আসাম্মানই এই ধরনের নৃশংস অপরাধের মূল অনুঘটক। তবে এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা সমাজে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রদান করবে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নতুন ধারায় এত দ্রুত অপরাধীর সাজা নিশ্চিত হওয়ায় বিচার বিভাগের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি, এই রায় সম্ভাব্য অপরাধীদের মনে কঠোর শাস্তির ভয় তৈরি করে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সংঘটিত করতে নিরুৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।