পরিবারকে লুকিয়ে স্বামীর শেষকৃত্য! খুনের অভিযোগে কাঠগড়ায় স্ত্রী

কলকাতার সিঁথি থানা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার জেরে তীব্র রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। খোদ স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীকে খুন করে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে তড়িঘড়ি শেষকৃত্য সম্পন্ন করার অভিযোগ তুলেছেন মৃতের বাবা। এই মর্মান্তিক ঘটনার জেরে পারিবারিক সম্পর্কের চরম অবনতি এবং এক জটিল পুলিশি তদন্তের দিকটি প্রকাশ্যে এসেছে।
অসুস্থতা ও রহস্যময় মৃত্যু
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ৪৩ বছর বয়সি শুভাশিস চক্রবর্তী বিগত প্রায় সাত বছর ধরে সিঁথির সাঁতরাপাড়া লেনে স্ত্রী দেবিকা সাহার সঙ্গে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। কোভিড পরিস্থিতিতে মেডিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভের চাকরি হারানোর পর থেকেই তিনি তীব্র স্নায়বিক ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে তিনি বাড়িতেই স্ব-চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। গত ১০ জুন সকালে খাবার খাওয়ার পর ঘুমন্ত অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি স্ত্রীর। স্থানীয় চিকিৎসক এসে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিনের বেকারত্ব এবং শারীরিক অসুস্থতাজনিত টানাপোড়েন এই ঘটনার অন্যতম কারণ বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে।
প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ ও পুলিশি তদন্ত
ঘটনার মোড় ঘোরে যখন শুভাশিসের পরিবার অভিযোগ করে যে, তাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে তড়িঘড়ি রতনবাবু ঘাটে মৃতদেহ সৎকার করা হয়েছে। এই কাজে স্থানীয় একটি ফার্মেসির কর্মীরাও দেবিকাকে সাহায্য করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। মৃত ব্যক্তির বাবার দাবি, শারীরিক নির্যাতনের পর তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতেই গোপনীয়তার সঙ্গে এই শেষকৃত্যের আয়োজন।
এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে সিঁথি থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩(১) এবং ২৩৮(এ) ধারায় অর্থাৎ খুন ও প্রমাণ লোপাটের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ ও ফরেনসিক দল ইতিমধ্যেই শুভাশিসের ব্যবহার করা ঘরে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তল্লাশি চালিয়েছে এবং পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই ঘটনা পারিবারিক বিশ্বাসের জায়গায় বড়সড় আঘাত হানবে এবং অপরাধীদের কঠিন আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হবে।