সুপ্রিম কোর্টেও বড় ধাক্কা, মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল নিয়ে হস্তক্ষেপ করল না আদালত!

মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের রাজ্যসভা প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তেই সিলমোহর রইল। সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিল, রিটার্নিং অফিসারের এই সিদ্ধান্তে তারা কোনও হস্তক্ষেপ করবে না। তবে এই জটিলতার সুরাহা খুঁজতে মামলাকারীকে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। শীর্ষ আদালতের এই অবস্থানের ফলে সংশ্লিষ্ট আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের রাস্তা পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে গেল বিজেপির।
আইনি বিতর্ক ও শীর্ষ আদালতের অবস্থান
মনোনয়ন বাতিলের এই ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করে তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কংগ্রেস। বিচারপতি পিকে মিশ্রা এবং বিচারপতি এস চান্দুরকরের বিশেষ বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। কংগ্রেসের পক্ষে বর্ষীয়ান আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি সওয়াল করে জানান, যে ফৌজদারি মামলার অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তাতে কেবল সমন জারি করা হয়েছিল। প্রার্থীর হলফনামা পেশের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং আদালতের হস্তক্ষেপ করা উচিত। কিন্তু শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সিদ্ধান্তটি ত্রুটিপূর্ণ হলেও একবার মনোনয়ন বাতিল হয়ে গেলে এই পর্যায়ে তারা সাধারণত হস্তক্ষেপ করে না। পরিবর্তে নির্বাচন কমিশনের কাছে আইনি প্রতিকার খোঁজার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঘটনার কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে সোমবার মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং অফিসার। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ ছিল, হায়দরাবাদের একটি আদালতে মীনাক্ষীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন রয়েছে, যা তিনি নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখ করেননি। যদিও মধ্যপ্রদেশের বিরোধী দলনেতা উমঙ্গ সিংহার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করে দাবি করেন, প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই, কেবল একটি আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছিল। রিটার্নিং অফিসার কোনো যুক্তিই না মানায় শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। এই ঘটনার জেরে মধ্যপ্রদেশের রাজ্যসভার তৃতীয় আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্রার্থী মহেশ কৈবত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের এই রায়ের ফলে বিরোধী শিবির আইনি লড়াইয়ে বড়সড় হোঁচট খেল।