ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু, তীব্র ক্ষোভে মার্কিন দূতকে তলব করল নয়াদিল্লি!

আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় নাবিকদের ওপর আমেরিকার ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে দু-বার ভারতীয় নাবিকদের বাণিজ্যতরী লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। ওমান উপসাগরে ঘটা এই সাম্প্রতিকতম হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিকের নির্মম মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং জবাবদিহি চেয়ে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জেসন মিকসকে জরুরি তলব করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। বিদেশমন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিবের পক্ষ থেকে মার্কিন দূতকে তলব করে এই হামলার তীব্র নিন্দা ও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ইরানের তেল অবরোধ ও হামলার কারণ
জানা গেছে, গত বুধবার ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমটি জলবীর’ নামক একটি বাণিজ্যতরীতে এই হামলা চালানো হয়। জাহাজটিতে মোট ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন, যাদের মধ্যে ৩ জন নিহত হন এবং বাকিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। হামলার পরপরই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্ট কম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর দায় স্বীকার করেছে। মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে আন্তর্জাতিক জলপথে যে নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ জারি রয়েছে, এই বাণিজ্যতরীটি তা লঙ্ঘন করেছিল। আর সেই অবরোধ লঙ্ঘনের ‘শাস্তি’ হিসেবেই মার্কিন বাহিনী এই হামলা চালায়, যার বলি হতে হলো সাধারণ ভারতীয় নাবিকদের।
নিরাপত্তা সংকট ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব
এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত সরকার এটিকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে আখ্যা দিয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী ও তার আশেপাশের সংবেদনশীল জলসীমায় অন্তত ১৩টি জাহাজে ৬২২ জন ভারতীয় নাবিক কর্মরত রয়েছেন। মার্কিন বাহিনীর এমন লাগাতার আগ্রাসনে ওই অঞ্চলে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এখন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাহাজ ও জলপরিবহন মন্ত্রক এবং ভারতীয় নৌবাহিনী উচ্চ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটনের এই একতরফা সামরিক পদক্ষেপ দিল্লির সাথে তাদের দ্বিপাক্ষিক ও কৌশলগত ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্কে এক বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে। নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত আন্তর্জাতিক স্তরে কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে চলেছে।