বাংলার অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো, ইউরোপের ধাঁচে বিশেষ মার্শাল প্ল্যান!

বাংলার অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো, ইউরোপের ধাঁচে বিশেষ মার্শাল প্ল্যান!

গত দেড় দশকে নানাবিধ কারণে বাংলার আর্থিক পরিকাঠামো অনেকটাই ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। শিল্প ও কর্মসংস্থানের তীব্র ঘাটতি এবং রাজস্ব সংকোচনের মতো সমস্যা রাজ্য অর্থনীতিকে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়ানো নতুন রাজ্য সরকারের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই দায়িত্ব নিয়ে আসরে নেমেছেন নতুন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর ইউরোপের ধাঁচে ‘মার্শাল প্ল্যান’-এর রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

মার্শাল প্ল্যান ও তার কার্যপদ্ধতি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিধ্বস্ত ইউরোপের দেশগুলোকে ঘুরে দাঁড় করাতে তৎকালীন মার্কিন বিদেশসচিব জর্জ সি মার্শাল যে পরিকল্পনা নিয়েছিলেন, তার মূল ভিত্তি ছিল অর্থনৈতিক স্বাবলম্বন। ঋণদান, প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোগত সাহায্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল জার্মানি-সহ একাধিক দেশ। বাংলার ক্ষেত্রেও সেই একই কৌশল অবলম্বন করতে চাইছে নতুন সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সাহায্য, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা এবং একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মেলবন্ধনই এই পরিকল্পনার মূল হাতিয়ার। ১০০ দিনের কাজ, প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মতো প্রকল্পগুলোকে সর্বস্তরে বাস্তবায়িত করে কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটানোই এর লক্ষ্য। ডবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা নিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের থমকে যাওয়া অর্থনীতি ফের গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে তিন প্রধান কৌশল

বিপুল ঋণের বোঝা এবং সামাজিক ভাতার পেছনে বিপুল ব্যয়ের কারণে রাজ্য বাজেটের বড় একটা অংশ চাপের মুখে রয়েছে। এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে অর্থমন্ত্রী মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের কথা বলেছেন। প্রথমত, রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন, পেনশন ও ভর্তুকির পাশাপাশি জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলোর ব্যয়ভার নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। দ্বিতীয়ত, রাজ্যের মোট রাজস্বের ৪২ শতাংশ বা তার বেশি অংশ চলে যায় শুধু ঋণের সুদ মেটাতে, যে কারণে সুদের হারে লাগাম টানা অত্যন্ত জরুরি। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদি বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে রাজ্যের জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন বৃদ্ধির হার ওপরে তুলতে হবে।

সব মিলিয়ে নীতি নির্ধারণ, সঠিক বাস্তবায়ন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বাংলার অর্থনীতিতে সুদিন ফেরার বিষয়টি। স্বপন দাশগুপ্তের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক খরা কাটিয়ে বাংলা এক নতুন দিগন্তের দিকে পৌঁছাতে পারবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *