আমেরিকার উদ্বোধনী ম্যাচেই থাকছেন না ট্রাম্প, ফুটবল বিশ্বে চরম বিস্ময়!

ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিশ্বনেতাদের উপস্থিতি সবসময়ই একটি বিশেষ আকর্ষণ ও ঐতিহ্যের অংশ। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে আমেরিকার প্রথম ম্যাচে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুপস্থিতির সিদ্ধান্ত ফুটবল ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে আমেরিকার বিশ্বকাপ অভিযান শুরুর ম্যাচে ট্রাম্পের না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। অথচ বিশ্বকাপের ড্র থেকে শুরু করে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সঙ্গে বৈঠক—সবখানেই এত দিন অগ্রভাগে দেখা গেছে তাকে।
ব্যস্ত সূচি নাকি নতুন কোনো চমক
বিশ্বকাপের টাস্ক ফোর্সের সিইও অ্যান্ড্রু জিউলিয়ানি জানিয়েছেন, অত্যন্ত ব্যস্ত কর্মসূচির কারণেই ডোনাল্ড ট্রাম্প উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তার পরিবর্তে মার্কিন প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে গ্যালারিতে থাকবেন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিয়ো। তবে জিউলিয়ানির মতে, ট্রাম্পের এই অনুপস্থিতির পেছনে অন্য কোনো বড় চমক বা নাটকীয়তা থাকতে পারে। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ট্রাম্পকে চেনার সুবাদে জিউলিয়ানি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ট্রাম্প সবসময় অভাবনীয় কিছু করতে ভালোবাসেন এবং টুর্নামেন্টের পরের ম্যাচগুলোতে তিনি হয়তো আরও বড় কোনো চমক নিয়ে হাজির হতে পারেন।
ঐতিহ্য ভাঙার প্রভাব ও মেক্সিকো সংযোগ
বিগত বিশ্বকাপগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, উদ্বোধনী ম্যাচে আয়োজক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতি একটি অলিখিত রেওয়াজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০১৪ সালে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ, ২০১৮ সালে রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন এবং ২০২২ সালে কাতারের আমির খলিফা এই নিয়ম বজায় রেখেছিলেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে সেই দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক ঐতিহ্যে ছেদ পড়ল। অবশ্য এবারের বিশ্বকাপে যৌথ আয়োজক মেক্সিকোর প্রথম ম্যাচেও সে দেশের রাষ্ট্রপতি ক্লদিয়া সেইনবাউন মাঠে উপস্থিত না থেকে ফ্যান পার্ক থেকে উদযাপন করেছেন। ট্রাম্পের এই অনুপস্থিতি উদ্বোধনী ম্যাচের রাজনৈতিক গুরুত্ব কিছুটা কমিয়ে দিলেও, পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তার আকস্মিক উপস্থিতি বিশ্বমাধ্যমের নজর আমেরিকার দিকে আরও বেশি আকর্ষণ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।