সই বিতর্কের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি!

সই বিতর্কের ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি!

সই জাল-কাণ্ডের ম্যারাথন জেরার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (সিআইডি) নজরে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট প্রচারে দেওয়া একটি ‘উস্কানিমূলক’ ও ‘হুমকি’ সংক্রান্ত বক্তব্যের জেরে শুক্রবার বিকেলে তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছান তদন্তকারীরা। তবে সাংসদ সেসময় বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় নোটিস গ্রহণ ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুটা আইনি জটিলতা তৈরি হয়।

কী ছিল সেই বিতর্কিত মন্তব্য?

লোকসভা নির্বাচনের সময় এক জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এই জলঘোলা হয়েছে। সেই জনসভায় তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ৪ তারিখের পরে ডিজে বাজানো হবে এবং এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। বিরোধীদের অভিযোগ ছিল, এই মন্তব্যের মাধ্যমে আসলে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্য রাজনৈতিক হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাগুইআটি থানায় এবং পরবর্তীতে বিধাননগর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম শাখায় এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই মামলারই তদন্তভার এখন সিআইডির হাতে রয়েছে এবং সেই সূত্রেই এদিন নোটিস ধরাতে তদন্তকারীরা তাঁর বাড়িতে যান।

নোটিস গ্রহণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব

শুক্রবার বিকেলে সিআইডির বিশেষ দল অভিষেকের দরজায় হাজির হলে জানা যায়, তিনি বাড়ি ছেড়ে পাশের লেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে একটি জরুরি বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নোটিস কে গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় তাঁর অফিসের কর্মীরা ও আইনজীবীরা তদন্তকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রসঙ্গত, বিধানসভার স্পিকারের চিঠি সংক্রান্ত সই জালিয়াতির মামলায় বৃহস্পতিবারই দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তাঁকে। চব্বিশ ঘণ্টাও কাটতে না কাটতেই অন্য একটি মামলায় রাজ্য পুলিশের সরাসরি অভিষেকের বাড়ি পৌঁছে যাওয়ার ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পরপর দুটি ঘটনায় শাসক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের ওপর আইনি চাপ যেমন বৃদ্ধি পেল, তেমনই বিরোধী শিবিরের তরফ থেকেও রাজনৈতিক উত্তাপ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *