৪ বছরের খুদের কান্নায় ফাঁস হলো গাড়ির ভিতর জোড়া মৃত্যুর রহস্য!

মহারাষ্ট্রের বদলাপুরে একটি গাড়ির ভেতর থেকে এক মহিলা ও তাঁর গাড়িচালকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জুয়েলি এলাকায় ঘটে যাওয়া এই রোমহর্ষক ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে এক চার বছরের শিশুর হাত ধরে। দৌড়োতে দৌড়োতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়া ওই খুদে বলে, “ওই দেখো মা ওখানে মরে গেছে।” প্রথমে বিশ্বাস না করলেও খুদের জোরাজুরিতে গাড়ির কাছে গিয়ে ওই আত্মীয় দেখেন, ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন শিশুটির মা এবং পাশে চালকের নিথর দেহ। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ এসে দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা, বাড়ছে রহস্য
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মৃত মহিলা গত তিন মাস ধরে বদলাপুরের জুয়েলি এলাকায় বসবাস করছিলেন। গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া অপর দেহটি মুম্বইয়ের ঘাটকোপারের বাসিন্দা এবং পেশায় গাড়িচালক গণেশ শিন্দের। দুজনের শরীরেই ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। ৪ বছরের শিশুটির বয়ান রেকর্ড করার পর পুলিশের অনুমান, পুরো ঘটনাটি শিশুটির চোখের সামনেই ঘটেছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক সন্দেহ, চালক গণেশ প্রথমে ওই মহিলাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করেন এবং পরবর্তীতে নিজে আত্মঘাতী হন।
সম্পর্কের টানাপড়েন ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই জোড়া মৃত্যুর নেপথ্যে কোনো গভীর ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মৃত মহিলার আত্মীয়দের দাবি, তাঁরা চালক গণেশ শিন্দেকে আগে কখনো দেখেননি। ফলে তাঁদের মধ্যে কোনো পূর্বপরিচয় বা সম্পর্কের টানাপড়েন চলছিল কি না, তা এখনও অস্পষ্ট। এই নৃশংস ঘটনার জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। একই সাথে, একটি চার বছরের নিষ্পাপ শিশুর সামনে এই ধরনের অপরাধের ঘটনা তার মনস্তত্ত্বে কতটা দীর্ঘমেয়াদি ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা। পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সবকটি দিক খতিয়ে দেখে তদন্তের পরিধি বাড়িয়েছে।