ফলতার পর এবার নন্দীগ্রাম! কুখ্যাত তৃণমূল নেতাকে হাফপ্যান্ট পরিয়ে গ্রামে ঘোরাল পুলিশ, উঠল ‘চোর’ স্লোগান

নন্দীগ্রাম: ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীরের পর এবার একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে। একাধিক গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত নন্দীগ্রামের কালীচরণপুরের দাপুটে তৃণমূল নেতা আব্দুল আলিম আলরাজিকে শুক্রবার দুপুরে হাফপ্যান্ট পরিয়ে এবং হাতে হাতকড়া দিয়ে এলাকায় ঘোরানো হলো। দীর্ঘ দিন ফেরার থাকার পর গত রবিবার রাতে নন্দীগ্রাম থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছিল।
গত সোমবার হলদিয়া মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক আব্দুল আলিমকে পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এরপরই মামলার তদন্ত ও তথ্য প্রমাণের স্বার্থে পুলিশ তাঁকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে বের হয়।
জনতার ক্ষোভ ও ‘চোর চোর’ স্লোগান:
একসময়ের দাপুটে এই তৃণমূল নেতাকে হাফপ্যান্ট পরা অবস্থায় পুলিশের গাড়ির বাইরে রাস্তায় হাঁটতে দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁকে দেখা মাত্রই গ্রামের মানুষ ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। বহু মানুষ পুলিশের পিছু পিছু গিয়ে এই নাটকীয় দৃশ্য নিজেদের মোবাইল ফোনে বন্দি করে রাখেন। তবে পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং নেতার ওপর যাতে কোনো গণপিটুনির মতো ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে কড়া সতর্ক ছিল পুলিশ বাহিনী।
খুনের মামলা থেকে এনআইএ-র রাডার:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত আব্দুল আলিম আলরাজির বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রামের সোনাচূড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার মনসাবাজারে বিজেপি কর্মী রথিবালা আড়ি হত্যাকাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত এই তৃণমূল নেতা। এছাড়াও, ২০২২ সালে সমবায় ব্যাংক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামের কাঞ্চননগর হাইস্কুলে যে ভয়াবহ বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছিল, সেই এনআইএ (NIA) হাসপাতালেও নাম রয়েছে আব্দুল আলিমের। পাশাপাশি, এলাকার বিরোধী রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষকে মারধর ও ভয় দেখানোর একাধিক অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।