সোনারপুরে কাটমানি ক্ষোভের মুখে তৃণমূল নেতা পলাতক, টাকা ফেরানোর আশ্বাস দিলেন স্ত্রী!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে সরকারি প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে ‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগে এক তৃণমূল নেতার বাড়ি ঘেরাও করে তীব্র বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সাঙ্গুর গ্রামের দীর্ঘদিনের সক্রিয় তৃণমূল কর্মী উপেন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে সরকারি আর্থিক সহায়তা থেকে শুরু করে সাধারণ পরিষেবা দেওয়ার নামে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার গ্রামবাসীদের এই আকস্মিক ক্ষোভের মুখে পড়ে এলাকা ছেড়েছেন অভিযুক্ত নেতা। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতে পরিস্থিতি সামাল দিতে ‘কাটমানি’র সমস্ত টাকা ধাপে ধাপে ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী।
তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে কাটমানি ও তোলাবাজির অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আবাস যোজনা থেকে শুরু করে ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড, রেশন কার্ড এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার নামে উপেন্দ্র মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন প্রকৃত উপভোক্তার কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত কাটমানি নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি এলাকায় জমি কেনাবেচা কিংবা প্রতিবেশীদের মধ্যকার পারিবারিক বিবাদ মেটানোর ক্ষেত্রেও ওই তৃণমূল নেতাকে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে বাধ্য করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে জমানো এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে শুক্রবার, যখন ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা তাঁদের টাকা, রেশন কার্ড ও জব কার্ড ফেরতের দাবিতে লাঠি-সোটা নিয়ে নেতার বাড়ি ঘেরাও করেন।
জনরোষের মুখে দায় এড়ানোর চেষ্টা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত স্তরেও। অভিযোগকারীদের দাবি, উপেন্দ্র মণ্ডল যে কাটমানি নিতেন, তার একটি অংশ পৌঁছাত স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য প্রশান্ত সর্দারের কাছে। গ্রামবাসীরা তাঁর বাড়িতেও চড়াও হলে পঞ্চায়েত সদস্য অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ঘটনার সম্পূর্ণ দায় উপেন্দ্র মণ্ডলের ওপর চাপিয়ে দেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা গ্রামীণ স্তরে দুর্নীতি ও কাটমানি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই প্রমাণ। দলনেত্রীর কড়া নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নীচুতলার একাংশের এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের ফলে স্থানীয় স্তরে শাসক দলের ভাবমূর্তি সংকটে পড়তে পারে। টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাসে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে শান্ত হলেও, কাটমানির টাকা আদতে কত দূর পৌঁছেছে, তা নিয়ে এলাকায় এখনো চাপা উত্তেজনা রয়েছে।