বিধায়কের গোডাউনে ত্রাণের পাহাড়! সাঁকরাইলে জনরোষ ও পাচার-বিতর্ক

হাওড়ার সাঁকরাইলে তৃণমূল বিধায়ক প্রিয়া পালের গোডাউন ও গ্যারাজ থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার সারেঙ্গায় বিধায়কের গোডাউন থেকে তিনটি ম্যাটাডোরে ত্রিপল, কম্বল, শাড়ি ও ধুতি-সহ প্রচুর ত্রাণ অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসীরা গাড়িগুলি আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণ কেন দীর্ঘ দিন গোডাউনে মজুত ছিল, তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা।
তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পাচারের অভিযোগ
বিক্ষোভকারী গ্রামবাসী ও স্থানীয় বিজেপির অভিযোগ, এই বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী গরিব মানুষদের মধ্যে বিলি না করে খোলা বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচার করা হচ্ছিল। সারেঙ্গার পর বিধায়কের হিরাপুর গ্যারাজ থেকেও ত্রিপল উদ্ধার হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সাঁকরাইল থানার পুলিশ ও সরকারি আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় নথি দেখালে বিক্ষোভ সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে স্থানীয়রা পুলিশের কাছে বিধায়কের বাড়ি তল্লাশিরও জোরালো দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, এর আগে বিধানসভা ভোটের মুখেও প্রিয়া পালের বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ তুলে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূলেরই একাংশ।
প্রশাসনের ভূমিকা ও বিধায়কের সাফাই
এই ঘটনা সরকারি ত্রাণের সঠিক বণ্টন ও স্বচ্ছতা নিয়ে জনমানসে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সামনেই পঞ্চায়েত বা অন্যান্য নির্বাচন থাকলে এর জেরে এলাকায় শাসকদলের জনভিত্তি ও ভাবমূর্তি ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিধায়ক প্রিয়া পাল। তাঁর দাবি, যে ত্রাণসামগ্রীগুলি বিলি হয়নি তা ফেরত নেওয়ার জন্য তিনি নিজেই জেলাশাসককে চিঠি দিয়েছিলেন এবং সেই নির্দেশিকা মেনেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছিল। এর সঙ্গে দুর্নীতির কোনও সম্পর্ক নেই।