শ্রীভূমি থেকে ধনেখালি, দিকে দিকে উদ্ধার ত্রাণের পাহাড়!

সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছে জমা হচ্ছে ক্লাবঘর ও শাসক দলের নেতাদের কার্যালয়ে! সম্প্রতি কলকাতার শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের খেলার মাঠের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে কম্বল, শাড়ি, ত্রিপল, দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্লাস্টিকের বালতি, পিতলের হাঁড়ি এবং ফুটবল। এমনকি গঙ্গাসাগরের জন্য নির্দিষ্ট ত্রাণ ও প্রসাদও সেখানে মজুত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীদের দাবি, সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে এই সমস্ত সামগ্রী আটকে রাখা হয়েছিল। স্থানীয় সূত্রের খবর, এগুলি এমএলএ ল্যাড এবং পুরসভার অনুমোদন দিয়ে কেনা হয়েছিল।
রাজ্যজুড়ে একের পর এক কার্যালয়ে ত্রাণের হদিশ
শুধু শ্রীভূমিই নয়, ত্রাণের এই গোপন মজুত উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে রাজ্যের একাধিক জায়গায়। দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম হাইপ্রোফাইল পুজো সুরুচি সঙ্ঘের ক্লাবঘরেও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের ‘নট ফর সেল’ লেখা ত্রিপল ও সবুজ কাপড় পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, বাগুইআটিতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সির অফিস এবং এক তৃণমূল কাউন্সিলরের অফিসে অভিযান চালিয়ে সরকারি শাড়ি, শিশুদের পোশাক এবং ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর চন্দ্রা ঘোষালের অফিস থেকেও বিপুল ত্রাণ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষ ‘চোর চোর’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। এছাড়া হুগলির ধনেখালিতে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায়ের বাড়ি লাগোয়া একটি বেসরকারি কলেজ থেকেও রড, লাঠি, ডাস্টবিন ও ফুটবলের পাশাপাশি প্রচুর সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, যার জেরে ইতিপূর্বেই ১৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
দুর্নীতির কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির নেপথ্যে মূল কারণ হিসেবে প্রশাসনিক নজরদারির অভাব এবং সরকারি ত্রাণ বণ্টন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমএলএ ল্যাড বা পুরসভার তহবিল থেকে কেনা সামগ্রী প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে না পৌঁছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা ক্লাবস্তরে আটকে রাখার এই প্রবণতা এক গভীর প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়কে স্পষ্ট করে। এর সম্ভাব্য প্রভাব হতে পারে সুদূরপ্রসারী। সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে, যার প্রমাণ মিলেছে সোনারপুরে কাউন্সিলরের কার্যালয়ে ডিম ছোড়ার ঘটনায়। দুর্যোগের সময় সরকারি সাহায্যের ওপর আমজনতার আস্থা যেমন কমছে, তেমনই রাজনৈতিকভাবে শাসক দল তীব্র ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের সামগ্রী এভাবে যত্রতত্র উদ্ধার হওয়ায় আগামী দিনে রাজ্য প্রশাসনের জবাবদিহিতা ও আইনি লড়াই আরও কঠিন হতে চলেছে।