১৯ সাংসদের গোপন বৈঠক ও এনডিএ-তে যোগদানের সই ফাঁস

নির্বাচনী ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যসভা থেকে একের পর এক সাংসদের পদত্যাগের মধ্যেই এবার লোকসভা সংসদীয় দলেও চূড়ান্ত ভাঙন প্রকাশ্যে এল। দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে যখন ‘ইন্ডি’ জোটের বৈঠক চলছিল, ঠিক তখনই মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে বিজেপি জোট তথা এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারছিলেন তৃণমূলের ১৯ জন বিদ্রোহী সাংসদ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে বৈঠকের পর এনডিএ-কে সমর্থন জানিয়ে তাঁদের স্বাক্ষর করা একটি তালিকাও এবার সামনে এসেছে।
দিল্লির গোপন বৈঠক ও বিদ্রোহের নেপথ্য কারণ
রাজনৈতিক সূত্রের খবর, গত ৯ জুন দিল্লির ৯ মতিলাল নেহরু মার্গে কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা একটি গোপন বৈঠকে মিলিত হন। জানা গেছে, প্রথম দফায় ১৪ জন সাংসদ এনডিএ-তে যোগদানের পক্ষে সই করেন এবং পরবর্তীতে মালা রায়, সায়নী ঘোষ, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রথম সারির আরও ৫ জন সাংসদ এতে স্বাক্ষর করেন। বিদ্রোহী ব্লকের নেতৃত্বে থাকা প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের নিয়ন্ত্রণ আর দলনেত্রীর হাতে নেই এবং তাঁরা লোকসভায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন শাসক জোটের সঙ্গেই বসতে চান। লোকসভা নির্বাচনে দলের আশানুরূপ ফল না হওয়া এবং দলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক অসন্তোষই এই বিদ্রোহের মূল কারণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তৃণমূলের ভবিষ্যৎ ও দিল্লির রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই গণ-বিদ্রোহের ফলে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের শক্তি প্রায় বিলুপ্তির পথে, যা দলটির জাতীয় রাজনীতির প্রাসঙ্গিকতাকে বড়সড় ধাক্কা দিল। ২০ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে ১৯ জনই একযোগে শাসক জোটে পা বাড়ানোয় সংসদে তৃণমূলের কণ্ঠস্বর যেমন দুর্বল হবে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে। এই দলত্যাগের ফলে কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি সরকারের স্থায়িত্ব ও সংসদীয় শক্তি আরও মজবুত হবে। অন্যদিকে, এই বিপুল ভাঙন সত্ত্বেও তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি, যা দলটির অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া চরম অস্বস্তি ও সিদ্ধান্তহীনতাকেই স্পষ্ট করছে।