সিবিআই ও ইডির পর এবার সিআইডি স্ক্যানারে জীবনকৃষ্ণ সাহা, কোন গোপন নথির খোঁজে এই হানা?

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই ও ইডির পর এবার মুর্শিদাবাদের বড়ঞার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়িতে হানা দিল রাজ্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের বড়ঞায় জীবনকৃষ্ণের আদি বসতবাড়ি ‘সাতকড়ি ভবন’-এ তল্লাশি চালান সিআইডি আধিকারিকরা। তদন্তকারী সূত্রের খবর, নিয়োগ দুর্নীতি মামলার বিশেষ একটি নথির খোঁজে মূলত এই অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযান চলাকালীন প্রাক্তন বিধায়কের স্ত্রী টগরি সাহাকেও দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন আধিকারিকরা। বর্তমানে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে জেলেই রয়েছেন জীবনকৃষ্ণ।
পুকুরে ফোন ফেলা থেকে পাঁচিল টপকে পালানোর চেষ্টা
জীবনকৃষ্ণ সাহাকে ঘিরে তদন্তের ইতিহাস অত্যন্ত নাটকীয়তায় ভরা। এর আগে ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল প্রথমবার সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হন তিনি। সে সময় কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের হানা দিতে দেখে তথ্য প্রমাণ নষ্ট করার উদ্দেশ্যে নিজের দুটি মোবাইল ফোন বাড়ির পাশের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে পুকুরের জল ছেঁচে ও ডুবুরি নামিয়ে দীর্ঘ কসরতের পর সেই ফোন দুটি উদ্ধার করা হয়। এই মামলায় ১৩ মাস জেলে থাকার পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছিলেন তিনি। তবে স্বস্তি মেলেনি বেশিদিন। ২০২৫ সালে বিপুল আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগে ফের ইডির হাতে গ্রেফতার হন এই প্রাক্তন বিধায়ক। ইডি আধিকারিকরা যখন তাঁর বাড়িতে হানা দেন, তখন বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে পাঁচিল টপকে প্রায় ১০০ মিটার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন জীবনকৃষ্ণ, যদিও শেষরক্ষা হয়নি।
আর্থিক অসঙ্গতি এবং সিআইডি তদন্তের সম্ভাব্য প্রভাব
কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের নজরে মূলত রয়েছে জীবনকৃষ্ণ ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিপুল অঙ্কের সন্দেহজনক লেনদেন। ইডি-র তদন্তে জানা গেছে, প্রাক্তন বিধায়ক এবং তাঁর স্ত্রী টগরি সাহার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কয়েক দফায় ৪৬ লক্ষেরও বেশি টাকা জমা পড়েছে, যার মধ্যে ২৬ লক্ষ টাকাই জমা হয়েছে টগরির অ্যাকাউন্টে। মাত্র চার মাসের মধ্যে এই বিপুল অর্থ কীভাবে এল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, তাঁরা দুজনেই সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও বেতনের বাইরে এই আয়ের কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি। সিবিআই ও ইডির সমান্তরালে এবার রাজ্য সরকারের সংস্থা সিআইডি সক্রিয় হওয়ায় জীবনকৃষ্ণের আইনি সংকট আরও তীব্র হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সিআইডি-র খোঁজা এই বিশেষ নথির হদিস মিললে নিয়োগ দুর্নীতির আর্থিক লেনদেনের চেইন এবং এর নেপথ্যে থাকা অন্যান্য প্রভাবশালীদের ভূমিকা সম্পর্কে নতুন কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসতে পারে, যা এই মামলার তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।