হাত কেটে নেব তবু সায়নী যাবে না! বোনসম সতীর্থের দলবদলে হৃদয় ভাঙল মহুয়ার

হাত কেটে নেব তবু সায়নী যাবে না! বোনসম সতীর্থের দলবদলে হৃদয় ভাঙল মহুয়ার

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে বড়সড় ফাটল প্রকাশ্যে এসেছে। সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে গঠিত বিদ্রোহী সাংসদদের আলাদা ফ্রন্টে এবার নাম লিখিয়েছেন সায়নী ঘোষ। একসময় যিনি কখনও দল না ছাড়ার বিষয়ে প্রবলভাবে সরব ছিলেন, তাঁর এই আকস্মিক পদক্ষেপে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি মর্মাহত হয়েছেন দলের আরেক ডাকাবুকো সাংসদ মহুয়া মৈত্র, যিনি প্রকাশ্যে তাঁর হতাশা ও আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন।

গ্যারান্টি দিয়েও ভুল প্রমাণিত মহুয়া

সায়নী ঘোষের এই শিবির বদলের সিদ্ধান্তে রীতিমতো ভেঙে পড়েছেন মহুয়া মৈত্র। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, সায়নীকে তিনি নিজের বোন ও সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। এমনকি মাত্র দুদিন আগেও তিনি সায়নীর বিশ্বস্ততার গ্যারান্টি দিয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে, তিনি নিজের হাত কেটে নেবেন, তবু সায়নী দল ছাড়বেন না। বিরোধী রাজনীতিতে সায়নীর লড়াকু মানসিকতা ও সাহসের কারণে তাঁর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখেছিলেন মহুয়া। কিন্তু বিদ্রোহী ফ্রন্টের সমর্থনপত্রে সায়নীর সই প্রকাশ্যে আসার পর তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে তাঁর মূল্যায়ন ভুল ছিল এবং সময় থাকতে দলে লুকিয়ে থাকা সুবিধাবাদীদের চেনা সম্ভব হয়নি।

ভাঙনের নেপথ্য কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে দলের চরম বিপর্যয়ের পরই মূলত এই দলবদলের হাওয়া তীব্র হয়েছে। নির্বাচনী ব্যর্থতার জেরে দলের একাংশের মধ্যে তৈরি হওয়া অনাস্থা ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে টিকে থাকার তাগিদেই এই বিদ্রোহী ফ্রন্ট গঠিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতেও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার অবিচল বার্তা দিয়েছেন মহুয়া মৈত্র। দলের সাংসদ ও বিধায়কদের এই দল ছাড়ার প্রবণতাকে তিনি বিপর্যয়ের বদলে দলের ‘শুদ্ধিকরণ’ প্রক্রিয়া হিসেবেই আখ্যা দিয়েছেন। আগামী দিনে এই ভাঙনের ফলে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় রদবদল আসতে পারে এবং রাজ্য রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরের বিন্যাস নতুন রূপ নিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *