অভিষেকের পর এবার মদন মিত্র, সই জালকাণ্ডে মমতার বিশ্বস্ত সঙ্গীকে সিআইডির নোটিস!

রাজ্যে বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে তদন্তের জাল ক্রমশ গুটিয়ে আনছে সিআইডি। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর এবার কামারহাটির বিধায়ক তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী মদন মিত্রকে নোটিস ধরাল রাজ্য পুলিশের এই গোয়েন্দা বিভাগ। শুক্রবার সকালে তাঁর কামারহাটির বাসভবনে গিয়ে এই নোটিস দিয়ে আসেন সিআইডি আধিকারিকরা। মদন মিত্র নিজে এই নোটিস পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও জানিয়েছেন, তাঁকে এখনও তলব করা হয়নি, কেবল তদন্তে সাহায্যের জন্য বলা হয়েছে।
তদন্তের নিশানায় শীর্ষ নেতৃত্ব
বিধায়কদের সই জাল করে বিধানসভায় জমা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ভবানীভবনে হাজিরা দিলেও তদন্তকারীদের একাধিক প্রশ্নে তিনি মেজাজ হারান এবং উত্তর এড়িয়ে যান বলে জানা গিয়েছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই অভিষেকের পর মদন মিত্রের মতো প্রভাবশালী নেতার দুয়ারে সিআইডির পৌঁছানো রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা সৃষ্টি করেছে।
দলের অভ্যন্তরীণ সংকট ও রাজনৈতিক প্রভাব
বিধানসভা নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত ভরাডুবির পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস চরম অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ভাঙনের সম্মুখীন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে দলের ৬০ জন বিধায়ক ইতিমধ্যেই ‘নব তৃণমূল ব্লক’ গঠন করে আলাদা হয়েছেন। লোকসভা ও রাজ্যসভাতেও দলের সাংসদদের মধ্যে বিভাজন ও ইস্তফার হিড়িক চলছে। দলের এই চরম ডামাডোলের মধ্যে মদন মিত্রের মতো নেতার কাছে সিআইডির নোটিস পৌঁছানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এই কঠিন সময়ে যে কয়েকজন শীর্ষ নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অবিচল আনুগত্য প্রকাশ করে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মদন অন্যতম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সই জালকাণ্ডের এই তদন্তের জেরে তৃণমূল সুপ্রিমো তাঁর শেষ কয়েকজন বিশ্বস্ত সঙ্গীকেও হারাতে পারেন এবং ফলস্বরূপ রাজ্যের শাসকদলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও গভীর সংকটের মুখে পড়তে চলেছে।