লোটে মাছের গন্ধে মাতোয়ারা রূপা! গৃহস্থের বাড়িতে ঢুকে খেলেন তৃপ্তি করে

জনপ্রতিনিধিদের সাধারণত কড়া নিরাপত্তা ও প্রোটোকলের ঘেরাটোপেই দেখা যায়। তবে এবার সোনারপুর দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এক অন্যরকম নজির গড়লেন। গত বৃহস্পতিবার এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়ে একটি সাধারণ গৃহস্থ বাড়ি থেকে ভেসে আসা লোটে মাছ রান্নার গন্ধে থমকে দাঁড়ান তিনি। শুধু তাই নয়, সোজা সেই বাড়িতে ঢুকে স্থানীয়দের হতবাক করে দিয়ে চেয়ে খেলেন লোটে মাছের তরকারি ও ভাত। স্টিলের থালায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে বসে তাঁর এই আহার ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চর্চার জন্ম দিয়েছে।
মাছ-রাজনীতি ও তৃণমূলের প্রচারের জবাব
রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ঘটনার একটি বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী তাৎপর্য রয়েছে। বিগত নির্বাচনের আগে বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যজুড়ে প্রচার করেছিল যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করবে এবং আমিষ খাওয়া বন্ধ করে দেবে। তবে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সেই দাবি নস্যাৎ করতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ‘মা আহারে’ সপ্তাহে দু’দিন ডিমের সঙ্গে মাছের ব্যবস্থা এবং বিধানসভার প্রথম দিনের অধিবেশনে বিধায়কদের জন্য মাছ-ভাতের আয়োজন সেই কৌশলেরই অংশ। এবার স্বয়ং বিজেপি বিধায়কের সাধারণ বাড়িতে ঢুকে লোটে মাছ খাওয়ার ঘটনা বিরোধীদের সেই তত্ত্বকে আরও একবার কার্যত ভুল প্রমাণ করল।
জনসংযোগের নতুন মাত্রা ও প্রভাব
লোটে মাছের দারুণ গন্ধে লোভ সামলাতে না পেরেই তিনি এই কাজ করেছেন বলে রূপা গঙ্গোপাধ্যায় নিজে স্বীকার করেছেন। ঘটনার প্রত্যক্ষ কারণ নিছকই খাদ্যানুরাগ হলেও, এর সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব রয়েছে। একজন তারকা বিধায়ক সাধারণ নিম্নবিত্ত পরিবারের ঘরে ঢুকে তৃপ্তি করে খাচ্ছেন, এই দৃশ্য সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব নিমেষে ঘুচিয়ে দিয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন স্থানীয়দের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার এই স্বতঃস্ফূর্ত প্রয়াস দলের নিচুতলার জনসংযোগকেও এক নতুন মাত্রা প্রদান করল।