তিন বছর পর মলমাসে বিরল সংযোগ, শুক্র প্রদোষ ব্রতে শিব আরাধনায় খুলবে ভাগ্যের দুয়ার!

তিন বছর পর মলমাসে বিরল সংযোগ, শুক্র প্রদোষ ব্রতে শিব আরাধনায় খুলবে ভাগ্যের দুয়ার!

সনাতন ধর্মে দেবাদিদেব শিবের আরাধনার জন্য প্রদোষ ব্রত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং পুণ্যময় তিথি হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি মাসের কৃষ্ণ ও শুক্লপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে এই পুজো করা হয়ে থাকে। তবে এবারের তিথিটি সাধারণ সময়ের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং আধ্যাত্মিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিন বছর পর পর ফিরে আসা পবিত্র জ্যৈষ্ঠ অধিক মাস বা মলমাসের বুকে এবার উদিত হচ্ছে ত্রয়োদশীর চাঁদ, যা একে একটি বিরল ধর্মীয় সংযোগে পরিণত করেছে। শুক্রবার এই বিশেষ তিথিটি পড়ায় শাস্ত্রীয় নিয়ম অনুযায়ী একে ‘শুক্র প্রদোষ ব্রত’ নামে অভিহিত করা হয়েছে। এই মলমাসের বিশেষ তিথিতে শিব ও বিষ্ণুর এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটেছে বলে মত ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের।

শুভ তিথি ও পুজোর মাহেন্দ্রক্ষণ

পঞ্জিকা ও জ্যোতিষ শাস্ত্রের গণনা অনুযায়ী, জ্যৈষ্ঠ অধিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিটি শুরু হচ্ছে ১২ জুন সন্ধ্যা ৭টা ৩৬ মিনিটে। এই পুণ্য তিথিটি সমাপ্ত হবে পরদিন অর্থাৎ ১৩ জুন বিকেল ৪টে ৭ মিনিটে। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে, প্রদোষ ব্রতের পুজো সর্বদা সূর্যাস্তের পরের সময় তথা প্রদোষ কালেই সম্পন্ন করতে হয়। সেই কারণে আগামী ১২ জুন, শুক্রবারই দেশজুড়ে পালিত হবে এই বিশেষ ব্রত। এই দিন মহাদেবের আরাধনার জন্য সবচেয়ে শুভ ও মাহেন্দ্রক্ষণ থাকছে সন্ধ্যা COURT ৭টা ৩৬ মিনিট থেকে রাত ৯টা ২০ মিনিট পর্যন্ত। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট সময়কালের মধ্যে ভক্তিভরে দেবাদিদেবের পুজো করলে ভক্তের সমস্ত মনষ্কামনা পূরণ হয়।

পূজা পদ্ধতি ও এর ইতিবাচক প্রভাব

শুক্র প্রদোষ ব্রতের পুজো সুচারুভাবে সম্পন্ন করার জন্য শাস্ত্রে সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়মের উল্লেখ রয়েছে। ব্রতের দিন ভোরে স্নান সেরে পরিষ্কার পরিচ্ছদ পরিধান করে শিবের চরণে মস্তক ঠেকিয়ে ব্রতের সংকল্প করতে হয়। এরপর গঙ্গাজল দিয়ে পূজাগৃহ পবিত্র করে কাষ্ঠাসনে শিবলিঙ্গ বা শিব পরিবারের মূর্তি স্থাপন করতে হবে। ‘ওঁ নমঃ শিবায়’ মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে পঞ্চামৃত দিয়ে শিবলিঙ্গের অভিষেক করানোর পর মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয় বেলপাতা, ধুতুরা, ভাং ও শমী পাতা অর্পণ করার নিয়ম রয়েছে। সাদা চন্দন, অক্ষত চাল এবং সুগন্ধী হলুদ ফুল নিবেদনের পর ঘিয়ের প্রদীপ জ্বেলে শিব চালিশা পাঠ ও প্রদোষ ব্রতের পুণ্যকথা শ্রবণ করতে হয়। সবশেষে কর্পূর ও প্রদীপ দিয়ে আরতি সম্পন্ন করার মাধ্যমে পুজো শেষ হয়।

সনাতন শাস্ত্রীয় বিশ্বাস ও বিশেষজ্ঞদের মতে, মলমাসের এই বিরল শুক্র প্রদোষ ব্রত নিষ্ঠাভরে পালন করার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। এই ব্রত পালনের ফলে ভক্তের পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিনের অশান্তি দূর হয়ে অনাবিল সুখ-শান্তি ফিরে আসে। এর পাশাপাশি কোষ্ঠীর নানা অশুভ দশা এবং চরম আর্থিক অনটন কেটে গিয়ে সংসারে সমৃদ্ধি আসে বলে মনে করা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *