সই জালিয়াতি মামলায় এবার সিআইডি দপ্তরে তলব কুণালকে, জোড়া অস্বস্তিতে অভিষেক!

রাজ্য রাজনীতিতে ফের নতুন মাত্রা যোগ করল বিধানসভায় বিধায়কদের সই জালিয়াতি মামলা। তদন্তে গতি বাড়িয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে নোটিস পাঠাল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইডি)। আগামী রবিবার দুপুর ২টো নাগাদ তাঁকে ভবানী ভবনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখোমুখি জেরার সম্ভাবনা ও বয়ানে অসঙ্গতি
বিধানসভায় পরিষদীয় দলনেতা নির্বাচনের রেজলিউশন বুকে বিধায়কদের সই নিয়েই এই বিতর্কের সূত্রপাত। অভিযোগ, গত ১৯ মে সই করানো হলেও নথিতে তা ৬ মে দেখানো হয়েছে। এই রেজলিউশন বুক তৈরি ও সই সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় কুণাল ঘোষের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চান তদন্তকারীরা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের রক্ষাকবচ নিয়ে সিআইডি দপ্তরে হাজিরা দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর দেওয়া তথ্যে একাধিক অসঙ্গতি মেলায় এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের সন্দেহে রবিবার বেলা ১২টায় তাঁকে ফের তলব করা হয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, আগের বিধায়কদের বয়ানের সঙ্গে অভিষেকের বয়ান না মেলায়, রবিবার অভিষেক এবং কুণাল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাড়ছে আইনি চাপ ও জোড়া অস্বস্তি
সই জালিয়াতি মামলার পাশাপাশি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর চাপ বাড়িয়েছে আরও একটি আইনি পদক্ষেপ। বিগত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে উস্কানিমূলক ও হুমকিসূচক মন্তব্যের অভিযোগে গত মাসে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়। বিধাননগর সাইবার থানার হাত থেকে শুক্রবার এই মামলার তদন্তভারও নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সিআইডি। একদিকে সই-কাণ্ডে বয়ানের অসঙ্গতি এবং অন্যদিকে উস্কানিমূলক ভাষণের জোড়া মামলায় তৃণমূল নেতৃত্বের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়ল। রবিবার ভবানী ভবনে এই জোড়া তদন্তের গতিপ্রকৃতি দলের অভ্যন্তরীণ রসায়ন এবং রাজ্য রাজনীতির সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।