অমিত শাহের ২৫০ কোটির প্যাকেজ কোথায়, ত্রিপুরায় চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে রেল ও সড়ক অবরোধ!

ত্রিপুরায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপাক্ষিক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্যের পরিস্থিতি। শুক্রবার সকাল থেকে এনএলএফটি ও এটিটিএফ-এর আত্মসমর্পণকারী সদস্যরা ত্রিপুরা জুড়ে ৭২ ঘণ্টার ধর্মঘট এবং রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধ শুরু করেন। আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের বড়মুড়া, মান্দাইয়ের ভৃগুদাস এলাকার রেললাইন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরুদ্ধ করে দেওয়া হয়। তবে উপজাতি কল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মার হস্তক্ষেপে এবং সরকারি আশ্বাসে মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যেই এই অবরোধ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
ধর্মঘটের কারণ ও অমীমাংসিত দাবি
এই বিক্ষোভের মূল কারণ হলো গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তির ধীর বাস্তবায়ন। মূলস্রোতে ফেরা ৫শতাধিক জঙ্গির পুনর্বাসনের জন্য ঘোষিত ২৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, আত্মসমর্পণকারী সদস্যদের স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির মতে, পৃথক তিপ্রাসা ল্যান্ড গঠন, ককবরক ভাষার জন্য রোমান লিপির স্বীকৃতি এবং উপজাতিদের আইনি অধিকার সুনিশ্চিত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনও উপেক্ষিত। সম্প্রতি মন্ত্রীর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক নিষ্ফলা হওয়ার পরেই বাধ্য হয়ে তারা এই অবরোধের পথ বেছে নেন।
সরকারি হস্তক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে সরাসরি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে পিকেটিং স্থলে পৌঁছান। সরকারের তরফে দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার ইতিবাচক আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয় এবং যান চলাচল ও রেল পরিষেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিপ্রাসা জনগোষ্ঠীর এই দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। আত্মসমর্পণকারীদের মূলস্রোতে ফেরানোর এই প্রক্রিয়ার যদি কোনো স্থায়ী ও দ্রুত সমাধান না হয়, তবে আগামী দিনে ত্রিপুরায় নতুন করে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।