মাইথন জলাধারে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা! পাড় কেটে সাদা পাথরের রমরমা কারবারে ফুঁসছে গ্রামবাসীরা

আসানসোল: ক্ষমতার হাতবদল কিংবা প্রশাসনের কড়া নির্দেশ—কোনো কিছুকেই তোয়াক্কা করছে না আসানসোলের সালানপুর ব্লকের পাথর মাফিয়ারা। মাইথন জলাধারের পাড় কেটেই রমরমিয়ে চলছে মূল্যবান কোয়ার্টজ় (সাদা পাথর)-এর বেআইনি কারবার। এর ফলে জলাধার সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে।
বৃন্দাবনী, মেজলাডি ও বাথানবাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র মাইথন জলাধারের পাড় ঘেঁষে মাটি খুঁড়ে এই পাথর তুলে নিচ্ছে। স্থলপথের পাশাপাশি ঝাড়খণ্ড থেকে নৌকোয় করে নদীপথেও দেদার পাচার হচ্ছে এই মূল্যবান পাথর। পরে ডাম্পার ও ট্র্যাক্টরে করে তা পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন নামী-দামি কারখানায়। পাথর মাফিয়ারা এতটাই চতুর যে, গরিব মানুষের ‘পাট্টা জমি’কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সেখানে পাথর স্তূপ করে রাখছে।
কিছুদিন বন্ধ থাকার পর এই চক্রটি নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠায় তীব্র ক্ষোভ দানা বেঁধেছে এলাকায়। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, মাইথন জলাধারের যেভাবে ক্ষতি করা হচ্ছে, তাতে ভবিষ্যতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে। এছাড়াও অনেক সমান্তরাল জমি এখন মাফিয়াদের অত্যাচারে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। সরকারি জমি দখল করে কীভাবে এই বেআইনি কারবার চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। অবিলম্বে পুলিশ ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর কড়া পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।
অন্যদিকে, এই চক্রের পান্ডা রাজু নামের এক ব্যক্তির সম্পত্তি নিয়েও এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে। টিনের একচালা ঘর থেকে মাত্র কয়েক বছরে কীভাবে সে চারতলা বাড়ির মালিক হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই বিষয়ে ভূমি রাজস্ব দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “গত বছর খবর পেয়ে মাইথন জলাধারের আশপাশে অভিযান চালিয়ে গাড়ি বোঝাই সাদা পাথর উদ্ধার করা হয়েছিল এবং এক লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়। তারপর কিছুদিন এই কারবার বন্ধ ছিল। নতুন করে এই ঘটনার তদন্ত করে আমরা অবিলম্বে কড়া ব্যবস্থা নেব। ইতিমধ্যেই আধিকারিকদের খোঁজ নিতে বলা হয়েছে।”