হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার ব্যর্থ চেষ্টা, বিস্ফোরক দাবি ট্রাম্পের

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে বেরিয়ে আসার সময় ভারতীয় জাহাজের ওপর ইরান ড্রোন হামলা চালিয়েছিল বলে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের সেই আক্রমণ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘মেনে নেওয়া যায় না’ বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। যদিও তিনি সুনির্দিষ্টভাবে কোন কোন ভারতীয় জাহাজের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকেও এই গুরুতর অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়া হয়নি।
ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা
ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় ভারতীয় নাবিক ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ক্রমাগত চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ছে। সম্প্রতি মার্কিন সামরিক অভিযানের জেরেই ওমান উপকূল ও সংলগ্ন এলাকায় তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ৮ জুন ‘মারিভেক্স’ নামের একটি ট্যাঙ্কার মার্কিন বাহিনী অচল করে দেওয়ার পর ২৪ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা হয়। এর দুদিন পর ‘সেট্টেবেলো’ নামের আরেকটি ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলায় ৩ জন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার ‘জলবীর’ নামের আরও একটি জাহাজ হামলার শিকার হয়, যাতে ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন।
এই ধারাবাহিক সংকটের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত সরকার এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতে নিযুক্ত মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জেসন মিকসকে তলব করে ওমান উপকূলের ঘটনার কড়া ব্যাখ্যা চেয়েছে। পাশাপাশি, ডিরেক্টরেট জেনারেল অব শিপিং (ডিজিএস) হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরে কর্মরত প্রায় ১৮ হাজার ভারতীয় নাবিকের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।
শান্তি আলোচনার আবহে নতুন জটিলতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের মূল কারণ ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক ও রাজনৈতিক মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ, যার খেসারত দিতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে। একদিকে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির আবহ তৈরি হচ্ছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই নতুন অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। ট্রাম্প একই পোস্টে অভিযোগ করেছেন যে, ইরান এই আলোচনা সংক্রান্ত ভুল তথ্য সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করছে এবং তেহরান মোটেও সদিচ্ছার সঙ্গে আলোচনা করছে না। এই টানাপোড়েনের সম্ভাব্য প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে বিমা ও পরিবহণ খরচ এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।