অবতরণের পরেই দাউদাউ আগুন ভারতের বায়ুসেনার বিমানে, দু’ভাগে ভাগ AN-32!
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/28/ajit-pawar-plane-crash-2026-01-28-11-30-18.jpg?w=1200&resize=1200,675&ssl=1)
আসামের জোরহাট বিমানঘাঁটিতে অবতরণের পরপরই ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি এএন-৩২ (AN-32) পরিবহন বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। রানওয়েতে নামার পরেই বিমানটিতে হঠাৎ আগুন ধরে যায় এবং তীব্র আঘাতে সেটি দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এই ঘটনার পরপরই বিমানঘাঁটি জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার কারণ ও জরুরি তৎপরতা
প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও কার্যকর এই সামরিক বিমানটি ঠিক কী কারণে অবতরণের মুহূর্তে দুর্ঘটনার শিকার হলো, তা এখনও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পরপরই বিমান বাহিনীর দমকল ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ভারতীয় বিমান বাহিনী এক বিবৃতিতে দুর্ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছে, জোরহাটে আজ একটি এএন-৩২ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে এবং বিস্তারিত তথ্য পাওয়া মাত্রই পরবর্তী আপডেট জানানো হবে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি রানওয়ের কোনো সমস্যার কারণে এই অগ্নিকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হচ্ছে।
প্রতিরক্ষা খাতে সম্ভাব্য প্রভাব
অ্যান্টোনভ An-32 হলো সোভিয়েত ইউনিয়নে নির্মিত একটি শক্তিশালী টুইন-ইঞ্জিন টার্বোপ্রপ সামরিক পরিবহন বিমান, যা দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় বিমান বাহিনীর অন্যতম প্রধান ভরসা বা ‘ওয়ার্কহর্স’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় রসদ ও সেনা পরিবহনে এই বিমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনায় প্রায় ১০০টি এই ধরনের বিমান সচল রয়েছে। জোরহাটের এই বিমানঘাঁটিটি উত্তর-পূর্ব ভারতের কৌশলগত প্রতিরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই ঘাঁটিতে সামরিক বিমান দুর্ঘটনার জেরে সাময়িকভাবে ওই অঞ্চলের বিমান পরিচালন ব্যবস্থা এবং নিয়মিত সাপ্লাই ড্রপ বা সরবরাহ মিশন ব্যাহত হতে পারে। এর আগে এই জোরহাট ঘাঁটি থেকে ওড়ার পরই একটি সুখোই যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। পর পর এমন ঘটনায় বায়ুসেনার এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটির নিরাপত্তা ও বিমান রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার তাগিদ তৈরি হবে।