‘অভিষেককে বুকে জড়িয়ে কাজ করতে রাজি!’ কেষ্টর পর এবার কি সুর নরম কল্যাণেরও?

কলকাতা: দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের আবহে এবার নাটকীয় মোড়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পর রাতারাতি যেন বদলে গেল শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুর। আগের সেই ঝাঁঝালো আক্রমণ বা চরম আল্টিমেটামের ছিটেফোঁটাও আর রইল না কল্যাণের গলায়। উল্টে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন— সদিচ্ছা আর সম্মান পেলে তিনি অভিষেককে বুকে জড়িয়ে নিয়ে কাজ করতেও সম্পূর্ণ রাজি।
তৃণমূলের শীর্ষ স্তরে যখন বিদ্রোহ আর মান-অভিমানের খেলা চলছিল, ঠিক তখনই শুক্রবার সন্ধ্যায় এক ধাক্কায় বরফ গলিয়ে দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণের কড়া মন্তব্য প্রসঙ্গে অভিষেক অত্যন্ত পরিণত সুরে বলেছিলেন, “কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় ছোট থেকে বড় করেছেন। বড় হিসেবে ওঁর অধিকার আছে আমায় দুটো কটূ কথা বলার।”
অভিষেকের এই ‘মমত্ব’ ভরা এবং সম্মানজনক বক্তব্য সামনে আসতেই সুর বদলাতে বাধ্য হন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণের কথায়, অভিষেক যে শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন, তার পাল্টা হিসেবে তিনিও পিছু হটতে রাজি। তবে তাঁর মূল শর্ত একটাই— দলে যোগ্য সম্মান ও সঠিক সদিচ্ছা বজায় থাকতে হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরে যে চরম ডামাডোল তৈরি হয়েছিল, অভিষেক ও কল্যাণের এই পারস্পরিক সমঝোতার পর আপাতত সেই ড্যামেজ কন্ট্রোল করা সম্ভব হলো। এখন দেখার, এই নতুন সমীকরণ দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে কতটা স্বস্তি ফেরায়।