বিয়ের সোনা আর নবজাতকের আংটি দিতে তামিলনাড়ুর কোষাগারে ৪ হাজার কোটির ধাক্কা!

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে আকর্ষণীয় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিনের হলেও এবার সুপারস্টার বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল, তামিলনাড়ু ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে) এক সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী পথ অবলম্বন করেছে। নির্বাচনে জয়লাভ করে বর্তমানে বিজয়ের নেতৃত্বে তামিলনাড়ুতে সরকার গঠিত হয়েছে। তবে ভোটের মাঠে দেওয়া আকর্ষণীয় জনমুখী প্রতিশ্রুতিগুলো এখন বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে রাজ্য প্রশাসনের সামনে এক অভূতপূর্ব আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
ক্ষমতায় আসার আগে বিজয়ের দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, রাজ্যের অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর পরিবারের মেয়েদের বিয়ের সময় সরকারের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে ৮ গ্রাম সোনা ও একটি রেশমি শাড়ি দেওয়া হবে এবং পরিবারে নতুন সন্তান এলে তাকে একটি সোনার আংটি দেওয়া হবে। এই প্রকল্পগুলো সাধারণ মানুষের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় মনে হলেও এগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে প্রায় ৭.৭৬ কোটি জনসংখ্যার এই রাজ্যের রাজকোষের ওপর প্রতি বছর প্রায় ৩,৩০০ কোটি থেকে ৪,০০০ কোটি টাকার এক বিশাল আর্থিক বোঝা চাপতে চলেছে।
নবজাতক ও বিয়ের উপহারে বিপুল ব্যয়
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তামিলনাড়ুতে বর্তমানে জন্মহার কম থাকলেও প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক শিশুর জন্ম হয়। বিজয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যদি মোট নবজাতকের ৬০ শতাংশ অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর পরিবারের শিশু ধরে নেওয়া হয়, তবে প্রতি বছর প্রায় ৪ লক্ষ ৭০ হাজার শিশু সোনার আংটি পাওয়ার যোগ্য হবে। একটি ছোট আংটির মূল্য প্রায় ৫,০০০ টাকা হিসাব করলে শুধুমাত্র এই খাতেই সরকারের বার্ষিক খরচ দাঁড়াবে প্রায় ২৩৫ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, বিয়ে সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিটি সরকারের জন্য আরও বেশি ব্যয়বহুল। রাজ্যে প্রতি বছর গড়ে ৪ থেকে ৫ লক্ষ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকার কম আয়ের পরিবারের কনেদের এই প্রকল্পের আওতায় আনা হলে প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ২ লক্ষ ৭০ হাজার কনে এই সুবিধা পাবেন। বর্তমানে ২২ ক্যারেট সোনার বাজারমূল্য প্রতি গ্রাম ১৩,৮৩৫ টাকা হওয়ায় ৮ গ্রাম সোনার দাম দাঁড়ায় ১,১০,৬৮০ টাকা। ৩,০০০ টাকার শাড়িসহ একজন কনের পেছনে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১,১৩,৬৮০ টাকা। ফলে শুধুমাত্র বিয়ের এই একটি প্রকল্পের জন্যই প্রতি বছর রাজকোষ থেকে খরচ হবে প্রায় ৩,০৭০ কোটি টাকা।
কোষাগারের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব
দুটি প্রকল্প মিলিয়ে প্রতি বছর তামিলনাড়ু সরকারকে ৩,৩০০ কোটি থেকে ৪,০০০ কোটি টাকার এক বিশাল অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ করতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ ব্যয়ের মূল কারণ হলো গত দুই বছরে বাজারে সোনার দামের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি। এই খরচটি বর্তমান স্বর্ণমূল্যের ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হলেও ভবিষ্যতে সোনার দাম আরও বৃদ্ধি পেলে এই ব্যয়ের পরিমাণ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে। ফলে এই বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বাজেট ও দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।