৬ বছর পর খুলল নাড্ডার কনভয়ে হামলার ফাইল, আরও বিপাকে ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির!

ডায়মন্ড হারবারে বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় নতুন করে তদন্ত শুরু করল পুলিশ। ২০২০ সালের এই হাইপ্রোফাইল মামলার এফআইআর-এ নাম ছিল জাহাঙ্গির খান ওরফে ‘পুষ্পা’-র। পুরনো মামলার ফাইল নতুন করে খোলায় ফলতার একসময়ের ‘বেতাজ বাদশা’-র আইনি জটিলতা যে আরও বৃদ্ধি পেল, তা বলাই বাহুল্য।
তদন্তকারীদের দাবি, আগের তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা হয়নি। সেই ত্রুটির কারণেই অভিযুক্তরা আইনি সুবিধা পেয়ে যান। তাই পুরনো মামলাগুলোর নতুন করে তদন্ত শুরু হচ্ছে। ২০২০ সালে ডায়মন্ড হারবার যাওয়ার পথে জে পি নাড্ডার কনভয়ে হামলার অভিযোগ ওঠে। ওই গাড়িতে নাড্ডার সঙ্গে থাকা তৎকালীন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ জানিয়েছিলেন, গাড়িটি বুলেটপ্রুফ না হলে তাঁদের প্রাণে বাঁচা কঠিন হত।
ভোট বাতিলের পর দেশ ছাড়ার ছক ও গ্রেফতারি
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্রটি বিশেষ চর্চায় আসে। দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন সেখানে ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেয়। তবে, ২১ মে পুনর্নির্বাচনের আগেই তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, তাঁর অনুপস্থিতিতেই এলাকার মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিতে পেরেছেন। এরপর দীর্ঘদিন জনসমক্ষে দেখা যায়নি জাহাঙ্গিরকে। পরে সীমান্ত পেরিয়ে নেপালে পালানোর ছক কষার সময় তিনি পুলিশের জালে ধরা পড়েন।
জনরোষ ও পুলিশি হেফাজত
জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগের তালিকা দীর্ঘ। রাজনৈতিক হুমকি, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে তোলা আদায়-সহ একাধিক বেআইনি কাজে তাঁর যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তাঁর দলেরই একাংশ তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। রাজনৈতিক পালাবদলের আগেই তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় ক্ষোভ জমা হচ্ছিল।
রবিবার ফলতায় পুলিশি ঘেরাটোপে এক অন্য জাহাঙ্গিরকে দেখা যায়। একসময়ের দাপুটে নেতাকে হাতজোড় করে, মাথা নিচু করে এবং কান ধরে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। পাঁচ দিনের প্রথম দফার পুলিশি হেফাজত শেষে রবিবার তাঁকে ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তের গভীরে পৌঁছতে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে আদালতের নির্দেশে তাঁকে ফের ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।