হরমুজ খুলতেই বদলাবে বিশ্বরাজনীতি? সাড়ে তিন মাসের সংঘাতের পর ট্রাম্পের চমকপ্রদ ঘোষণা

হরমুজ খুলতেই বদলাবে বিশ্বরাজনীতি? সাড়ে তিন মাসের সংঘাতের পর ট্রাম্পের চমকপ্রদ ঘোষণা

বারুদের গন্ধ পেরিয়ে অবশেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস মধ্যপ্রাচ্যে! সাড়ে তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও তীব্র উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালী অবশেষে উন্মুক্ত হতে চলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী শুক্রবার, ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

এই চুক্তির প্রধানতম অগ্রগতি হলো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তৈল ধমনী হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া। গত সাড়ে তিন মাস ধরে এই সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির পরপরই হরমুজ প্রণালী থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে। কাতারের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর দুই দেশ এই সমঝোতায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

চুক্তির শর্ত ও সমঝোতা

চুক্তির পারস্পরিক শর্ত অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বাজেয়াপ্ত করা ২৫ বিলিয়ন ডলার অর্থ ফেরত দেবে এবং দেশটির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে। এর ফলে ইরান আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় বৈধভাবে তেল বিক্রি করার সুযোগ পাবে। এর বিনিময়ে তেহরানকে তার পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে। ইরান আর কোনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং নতুন সেন্ট্রিফিউজ স্থাপন থেকে বিরত থাকবে। তবে ওয়াশিংটন ইরানের শান্তিপূর্ণ অসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচিকে স্বীকৃতি দেবে, যা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নজরদারিতে পরিচালিত হবে। এছাড়া আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরান বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অর্থ ও অস্ত্র সহায়তা দেওয়া বন্ধ রাখবে।

কারণ ও আন্তর্জাতিক প্রভাব

মূলত দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের সামরিক সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে মুক্তি পেতেই উভয় পক্ষ এই সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি আমেরিকার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছিল। এই চুক্তির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং জ্বালানির দাম দ্রুত হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্যে বড় ধরনের স্থিতি ফিরবে। তবে চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগে আমেরিকা তার অন্যতম মিত্র সৌদি আরব ও ইসরায়েলের সঙ্গে এই খসড়ার খুঁটিনাতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *