‘ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লার’ থেকে এক লহমায় ‘প্যায়ারা বৌদি’! এবার নয়নাকে চরম হুঁশিয়ারি কুণালের

‘ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লার’ থেকে এক লহমায় ‘প্যায়ারা বৌদি’! এবার নয়নাকে চরম হুঁশিয়ারি কুণালের

কলকাতা: তৃণমূল রাজনীতিতে সৌজন্য আর কটাক্ষের খেলা যেন প্রতিনিয়ত রূপ বদলাচ্ছে। উত্তর কলকাতার বিদায়ী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল ছেড়ে NCPI-তে যোগ দেওয়ার পর তাঁর স্ত্রী তথা চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। কদিন আগেই নয়নাকে ‘ভ্রাম্যমাণ বিউটি পার্লার’ বলে কটাক্ষ করা উত্তর কলকাতার নবনিযুক্ত জেলা সভাপতি তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের সুরে এবার হঠাৎই বদল। নয়নাকে ‘বহুত প্যায়ারা বৌদি’ (খুব প্রিয় বৌদি) সম্বোধন করে এক অদ্ভুত রাজনৈতিক চাল চাললেন তিনি।

সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, “নয়াদি আমার ভীষণ প্রিয় বৌদি। আমরা একসময় হাতে হাত রেখে শপথ নিয়েছিলাম যে মমতাদির সঙ্গ ছাড়ব না। এখন দেখার আমার বৌদি মমতাদির হাত ধরে থাকেন নাকি ওঁর স্বামীর হাত ধরেন।” সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘দলবদলের স্পেশালিস্ট’ ও ‘জামাইবাবু’ খোঁচা দিয়ে কুণাল আরও যোগ করেন, “জামাইবাবু তো চলে গেলেন। এবার বৌদি কী করবেন, সেটা উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতি হিসেবে আমাকে তো জানতেই হবে।”

কুণাল ঘোষ নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আপনি দিদির সঙ্গে থাকবেন নাকি স্বামীর সঙ্গে, সেটা আগে ঠিক করুন। দিদির হাত ধরলে কি স্বামীর হাত ছেড়ে দেবেন? যে কোনও একজনের রাজনৈতিক হাত তো ছাড়তেই হবে। আর যদি সত্যিই দিদির সঙ্গে থাকেন, তবে আপনার স্বামী যে দিদির সঙ্গে গদ্দারি করলেন, প্রকাশ্যে তার সমালোচনা করে দেখান!”

‘দিদি আমার দুর্গা, ওঁর হাত ছাড়ব না’— পালটা নয়না

স্বামীর দলবদলের পর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে এদিন চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি কোনওভাবেই তৃণমূল ছাড়ছেন না। কুণাল ঘোষের আগের কটাক্ষের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে দিদির সঙ্গেই আছি। দিদি আমাকে ছেড়ে যেতে পারেন, কিন্তু আমি তাঁকে ছেড়ে যাব না। যাঁকে আমি নিজের দুর্গা বলে ডেকেছি, তাঁকে কীভাবে ছেড়ে যেতে পারি? আমি কোনওদিন দিদির পাশ ছাড়ব না।”

ভোটের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই তৃণমূলের অন্দরে কুণাল বনাম নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হাইভোল্টেজ বাকযুদ্ধ এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগের পর উত্তর কলকাতার রাজনীতি এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *