তৃণমূলের ভরাডুবির পর কি এবার মমতার পাশ থেকে সরছে সপা, বাড়ছে ইন্ডিয়া জোটের ফাটল

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনের পর ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটেও রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। ভোটে কারচুপির অভিযোগে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ফলাফল মানতে না চাইলেও, জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এতদিন যে ইন্ডিয়া জোটের শরিকরা তৃণমূলনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের সুরেই এখন স্পষ্ট বদল। সোমবার কলকাতায় এসে সমাজবাদী পার্টির (সপা) জাতীয় সহ-সভাপতি কিরণময় নন্দের চাঁছাছোলা আক্রমণ সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলনেত্রীর এই পরাজয়ের পর সমাজবাদী পার্টি তথা অখিলেশ যাদব তাঁর থেকে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছেন, যা জাতীয় স্তরে ইন্ডিয়া জোটের ফাটলকে আরও চওড়া করল।
বাস্তবের মুখোমুখি ও রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা
ফলপ্রকাশের পরপরই অখিলেশ যাদব কলকাতায় এসে মমতার বাড়িতে দেখা করে তাঁর প্রতি নৈতিক সমর্থন জানিয়েছিলেন। কিন্তু মাত্র একমাসের মধ্যেই সেই সমীকরণ ওলটপালট হয়ে গেল। বিধানসভায় একটি বৈঠকে যোগ দিতে এসে কিরণময় নন্দ সাফ জানান, জনতাই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চায়নি এবং তিনি দুই কেন্দ্রেই হেরে গিয়েছেন। এর আগে অখিলেশ যাদব মমতার পাশে দাঁড়িয়ে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তাকে স্রেফ ‘রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কিরণময়। তাঁর মতে, বাংলায় নির্বাচন সম্পূর্ণ সঠিক ও স্বচ্ছ হয়েছে। এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, সপার শীর্ষ নেতৃত্ব এখন আর মমতার কারচুপির তত্ত্বকে মান্যতা দিতে রাজি নয়।
তৃণমূলের প্রাসঙ্গিকতার সংকট ও জোটের ভবিষ্যৎ
রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল কংগ্রেস এখন জাতীয় রাজনীতিতে নিজেদের অস্তিত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখার লড়াই চালাচ্ছে। সম্প্রতি দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগদান এবং কংগ্রেসে বড় পদ পাওয়ার গুঞ্জন তৈরি হলেও, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। জোটের অন্যতম প্রধান শরিক সমাজবাদী পার্টির এই অবস্থান পরিবর্তনের ফলে জাতীয় স্তরে তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা বড়সড় ধাক্কা খেল। একইসঙ্গে, বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করে কিরণময় নন্দ যেভাবে রাজ্যে ‘নতুন সূর্যোদয়’ এবং বিগত সরকারের ‘দুর্নীতি থেকে মুক্তি’র কথা বলেছেন, তা তৃণমূলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। যদিও দলের একাংশের মতে সপার অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ভিন্ন হতে পারে, তবে জাতীয় সহ-সভাপতির এই প্রকাশ্য তোপ ইন্ডিয়া জোটের অন্দরে তৃণমূলের একাকীত্বকেই স্পষ্ট করে তুলল।