উইকেন্ডে কাজ করায় ভারতীয় কর্মীকে কড়া ভাষায় বকলেন নরওয়ের বস!

উইকেন্ডে কাজ করায় ভারতীয় কর্মীকে কড়া ভাষায় বকলেন নরওয়ের বস!

অফিসের কাজ শেষ করতে শনি ও রবিবার ল্যাপটপ নিয়ে বসেছিলেন এক ভারতীয় আইটি কর্মী। আশা ছিল সোমবার অফিসে গিয়ে বসের প্রশংসা পাবেন। কিন্তু ঘটল ঠিক উল্টো ঘটনা। উইকেন্ডে কাজ করার কারণে ওই কর্মীকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করলেন তাঁর নরওয়েজীয় বস। নরওয়ের অসলো শহরে কর্মরত নিখিল কাপুর নামের ওই ভারতীয় যুবকের সঙ্গে ঘটা এই ঘটনাটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাঁর ম্যানেজার লার্স অ্যান্ডারসেন স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে ছুটির দিনে কাজ করা মানে কর্মীর সময় ব্যবস্থাপনার অভাব অথবা কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত চাপ, যার কোনোটিই কাম্য নয়।

ভারত ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান কর্মসংস্কৃতির পার্থক্য

এই ঘটনার মূল কারণ হলো দুই দেশের কর্মসংস্কৃতির বিস্তর ফারাক। ভারতে সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ ঘণ্টা কাজ করা এবং ছুটির দিনেও অফিসের কাজ করাকে অনেক ক্ষেত্রেই কর্মীদের একাগ্রতা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু নরওয়ে সহ স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে কর্ম-জীবন ভারসাম্যকে বা ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালেন্সকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সেখানে সপ্তাহে মাত্র ৩৭.৫ ঘণ্টা কাজ করার নিয়ম রয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের পর অফিসের কাজে কর্মীদের বিরক্ত করা সামাজিকভাবে অনুচিত বলে বিবেচিত হয়। সেখানকার নীতি অনুযায়ী, কর্মীরা মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেই কাজের মান ভালো হয় এবং ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সময় বের করা অত্যন্ত জরুরি।

ভাইরাল বিতর্ক এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব

লিঙ্কডইনে নিখিল কাপুরের শেয়ার করা এই অভিজ্ঞতা মুহূর্তের মধ্যেই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। হাজার হাজার ভারতীয় কর্পোরেট কর্মী এই পোস্টে নিজেদের হতাশা ব্যক্ত করেছেন। অনেকেই ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর অতিরিক্ত কাজের চাপের সমালোচনা করে বিদেশি কর্মসংস্কৃতি গ্রহণের দাবি তুলেছেন। এই ঘটনাটি ভারতীয় কর্পোরেট জগতে কর্ম-জীবন ভারসাম্য এবং কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে ভাবার পথ তৈরি করেছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতি পুনর্মূল্যায়নে উৎসাহিত করতে পারে, যেখানে কর্মীদের নিছক সম্পদ হিসেবে না দেখে তাদের সুস্থ জীবনযাপনের ওপর জোর দেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *