আসছে ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী সুপার এল নিনো, ২০২৭ সালেও তীব্র খরার আশঙ্কা!

আসছে ইতিহাসের সবচেয়ে বিধ্বংসী সুপার এল নিনো, ২০২৭ সালেও তীব্র খরার আশঙ্কা!

জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক তাপমাত্রার প্রভাবে এক অভূতপূর্ব প্রাকৃতিক দুর্যোগের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ব। মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা এনওএএ (NOAA), জাপানের আবহাওয়া সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপারনিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের যৌথ বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও স্যাটেলাইট উপাত্ত নিশ্চিত করেছে যে, প্রশান্ত মহাসাগরে ইতিমধ্যেই এল নিনো পর্ব শুরু হয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এটি কোনো সাধারণ ঋতুগত পরিবর্তন নয়, বরং ২০২৬-২৭ সালে এটি একটি রেকর্ড ভাঙা ‘সুপার এল নিনো’-তে পরিণত হতে চলেছে।

রেকর্ড ভাঙা তীব্রতার কারণ ও সময়সীমা

আবহাওয়াবিদ্যার পরিভাষায়, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি উষ্ণ হয়ে উঠলে তাকে এল নিনো বলা হয়। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবার সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির এই হার সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। জেআরসি-র বিশেষ প্রতিবেদন এবং কম্পিউটার সিমুলেশন অনুযায়ী, এই চরম পরিস্থিতির কোনো ঐতিহাসিক নজির বিজ্ঞানীদের কাছে নেই। এই এল নিনোটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শক্তিশালী হতে শুরু করবে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাবে। এর বিধ্বংসী প্রভাব ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

ভারতীয় উপমহাদেশসহ বৈশ্বিক আবহাওয়ায় সম্ভাব্য বিপর্যয়

এই সুপার এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বড় একটি অংশে তীব্র খরা, প্রবল বন্যা, প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহ ও বিধ্বংসী ঝড় দেখা দেবে। বিশেষ করে অনুন্নত ও দরিদ্র দেশগুলোতে এটি দুর্ভিক্ষ ও চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তীব্র বৃষ্টিপাতের ঘাটতির কারণে অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দেখা দেবে মারাত্মক জলসংকট ও দাবানল। এছাড়া আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল ও মধ্য আমেরিকায় অনাবৃষ্টির কারণে চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই জলবায়ুগত পরিবর্তনের সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতীয় উপমহাদেশের ওপর। এল নিনোর কারণে ২০২৭ সালেও দক্ষিণ এশিয়ার স্বাভাবিক বর্ষা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর ফলে ভারতে তীব্র খরার ঝুঁকি তৈরি হবে, যা দেশের সামগ্রিক কৃষিব্যবস্থা, ফসলের উৎপাদন এবং ভূগর্ভস্থ জলসম্পদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *