কোমরে দড়ি বেঁধে ‘পুষ্পা ট্রিটমেন্ট’ দেওয়া হোক! জমি দখলকারী তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার

শান্তিপুর: মারধর ও জোরপূর্বক জমি দখলের অভিযোগে অবশেষে পুলিশের জালে নদিয়ার শান্তিপুরের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা নীলরতন ঘোষ। আর এই খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ধৃত নেতাকে সাধারণ হাফপ্যান্ট পরিয়ে, কোমরে দড়ি বেঁধে গোটা এলাকায় ঘোরানোর দাবি তুলে শান্তিপুর থানায় চড়াও হলেন স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মীরা। ফলতার কুখ্যাত তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের কায়দাতেই এই ‘পুষ্পা ট্রিটমেন্ট’-এর দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে ফুলিয়া এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। অভিযোগ, ফুলিয়ার ওই তৃণমূল নেতা নীলরতন ঘোষ প্রকাশ্য রাস্তায় এক বৃদ্ধকে বেধড়ক মারধর করেন এবং জোর করে তাঁর জমি লিখে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার সোমবারই শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই অভিযুক্ত নেতাকে গ্রেপ্তার করে।
তৃণমূল জমানার ‘ত্রাস’ নীলরতন!
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নীলরতনের বিরুদ্ধে এটাই প্রথম অভিযোগ নয়। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য দিবালোকে এক ব্যক্তিকে গুলি করে খুন করার মারাত্মক অভিযোগ ছিল। এছাড়াও সাধারণ মানুষকে মারধর, এমনকী মহিলাদের শারীরিক নিগ্রহ করার একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, এতদিন রাজ্যে তৎকালীন শাসক দলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করার সাহস পায়নি। রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি বদলাতেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন অত্যাচারিতরা।
দুর্নীতি দমন চলবে, হুঁশিয়ারি বিজেপির:
বিজেপির স্থানীয় নেতা চঞ্চল চক্রবর্তী এই বিষয়ে বলেন, “এতদিন এই নেতার ভয়ে মানুষ মুখ খুলতে পারতেন না। বহু মানুষের জমি দখল ও অত্যাচার করেছেন তিনি। থানায় ডায়েরি হলেও আগে কোনও লাভ হতো না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে। এক বৃদ্ধকে মারধরের অভিযোগ আসতেই পুলিশ অ্যাকশন নিয়েছে। ফুলিয়ায় কোনও রকম অসামাজিক কাজ বা দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না।” এলাকার মানুষের এখন একটাই দাবি, এতদিন যে অত্যাচার নীলরতন চালিয়েছেন, তার যোগ্য শাস্তি হিসেবে তাঁকে কোমরে দড়ি বেঁধে এলাকায় ঘোরানো হোক।