আমেরিকায় বড়সড় আইনি ধাক্কা টাটার! গোপন তথ্য চুরির দায়ে TCS-কে ১৮০০ কোটির জরিমানা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের

আমেরিকায় বড়সড় আইনি ধাক্কা টাটার! গোপন তথ্য চুরির দায়ে TCS-কে ১৮০০ কোটির জরিমানা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের

নিউ ইয়র্ক: দেশের মাটিতে কর্মী ছাঁটাই এবং জোরপূর্বক বদলির বিতর্ক কাটিয়ে ওঠার আগেই আন্তর্জাতিক স্তরে বড়সড় আইনি ধাক্কা খেল ভারতের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS)। আমেরিকার শীর্ষ আদালত বা সুপ্রিম কোর্ট ‘ট্রেড সিক্রেট’ (ব্যবসায়িক গোপন তথ্য) চুরি সংক্রান্ত একটি মামলায় টিসিএস-এর পুনর্বিবেচনার আপিল শুনতে সরাসরি অস্বীকার করেছে। এর ফলে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল এবং টিসিএস-কে প্রায় ২২০ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১,৮০০ কোটি টাকারও বেশি) আর্থিক জরিমানার মুখে পড়তে হচ্ছে।

মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের পর টিসিএস জানিয়েছে, তাদের মূল জরিমানা ছাড়াও অতিরিক্ত ৭০ মিলিয়ন ডলার এককালীন খরচ বাবদ দিতে হবে। সব মিলিয়ে এই মামলায় কো ম্পা নির মোট আর্থিক লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২০ মিলিয়ন ডলারে।

কী সেই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ?

এই আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত আমেরিকার জীবন বিমা সফটওয়্যার ব্যবসাকে কেন্দ্র করে। ১৯৯০-এর দশকে ‘ডিএক্সসি টেকনোলজি’-এর পূর্বসূরি সংস্থা ‘কম্পিউটার সায়েন্সেস কর্পোরেশন’ (CSC) বিমা খাতের জায়ান্ট ‘ট্রান্সআমেরিকা’-কে একটি নিজস্ব জীবনবিমা সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের লাইসেন্স দিয়েছিল।

পরবর্তীকালে, টিসিএস ওই ‘ট্রান্সআমেরিকা’ সংস্থা থেকে প্রায় ২,২০০ জন কর্মীকে নিজেদের সংস্থায় নিয়োগ করে। অভিযোগ ওঠে, টিসিএস ওই কর্মীদের ব্যবহার করে সিএসসি-র সেই গোপন সফটওয়্যার এবং প্রযুক্তিগত গোপন তথ্য (Trade Secret) হাতছাড়া করায়। শুধু তাই নয়, সেই চুরি করা প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিজেদের একটি প্রতিযোগী বিমাসংস্থার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে ফেলে। এই চুরির অভিযোগে ২০১৯ সালে ডালাসের একটি আদালতে টিসিএস-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।

নিম্ন আদালতের রায়ই বহাল রাখল সুপ্রিম কোর্ট:

টিসিএস শুরু থেকেই এই তথ্য চুরির দাবি অস্বীকার করে আসছিল। কিন্তু ২০২৩ সালে মার্কিন জুরি বোর্ড জানায় যে টিসিএস জেনেশুনে এই তথ্য চুরি করেছে এবং ২১০ মিলিয়ন ডলার জরিমানার সুপারিশ করে। শেষ চেষ্টা হিসেবে টিসিএস মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও গতকাল সুপ্রিম কোর্ট তাদের আপিল খারিজ করে দেয় এবং নিম্ন আদালতের ১৬৮ মিলিয়ন ডলার জরিমানার রায়ই বহাল রাখে (যা অন্যান্য খরচ মিলিয়ে ২২০ মিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে)।

আদালতে টিসিএস যুক্তি দিয়েছিল যে, এই ঘটনায় বিরোধী সংস্থার সরাসরি কোনও আর্থিক ক্ষতি হয়নি, তাই এত বিপুল জরিমানা অযৌক্তিক। কিন্তু মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সেই যুক্তি খতিয়ে না দেখে মামলাটি খারিজ করে দেয়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে টাটা গোষ্ঠীর এই আইটি জায়ন্টের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *