হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে কলকাতায় ফের সেই চেনা মেজাজে রাস্তায় নামলেন মমতা ব্যানার্জি!

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে চরম ভরাডুবি এবং দলের অন্দরে নজিরবিহীন বিদ্রোহের আবহে কলকাতায় ফের একবার নিজের চেনা ‘বিরোধী নেত্রী’র মেজাজে রাজপথে নামলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। শহরের বুকে চলমান হকার উচ্ছেদ অভিযানের তীব্র প্রতিবাদে এবং গরিব ব্যবসায়ীদের রুজি-রুটি রক্ষার দাবিতে বুধবার ধর্মতলার রাস্তায় নেমে এক বিশাল শক্তি প্রদর্শন করলেন তিনি।
ধর্মতলা থেকে ওয়েলিংটন পর্যন্ত মেগা মিছিল ও মানববন্ধন
বুধবার বিকেলে ধর্মতলা মোড় থেকে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির সূচনা হয়। মিছিলে হাঁটার আগে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে এক দীর্ঘ মানববন্ধন বা হিউম্যান চেইন গঠন করা হয়। এরপর তৃণমূল নেত্রীর নেতৃত্বে বিশাল মিছিলটি ধর্মতলা মোড় থেকে শুরু হয়ে সেন্ট্রাল কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ওয়েলিংটন পর্যন্ত যায়। মিছিলে মমতা ব্যানার্জির পাশাপাশি পা মেলান কুণাল ঘোষ, দোলা সেন সহ দলের শীর্ষ স্তরের অনুগত নেতারা।
চরম রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে বড় শক্তি পরীক্ষা
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আন্দোলন শুধু হকারদের অধিকার রক্ষার লড়াই নয়, বরং তৃণমূল নেত্রীর কাছে নিজের রাজনৈতিক ক্যারিশ্মা ও অস্তিত্ব ধরে রাখার এক মরণপণ পরীক্ষা। বর্তমান প্রেক্ষাপটটি অত্যন্ত জটিল:
- নির্বাচনী বিপর্যয়: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে।
- দলীয় ভাঙন ও লোকসভার ধাক্কা: মূল দল থেকে বের হয়ে বিধানসভায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ‘বিদ্রোহী’ তৃণমূল শিবির। এমনকি লোকসভার ২০ জন তৃণমূল সাংসদ ইতিমধ্যেই অন্য দলে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছেন।
এই ছিন্নভিন্ন সংগঠন এবং মুষল পর্বের চরম সংকটের দিনে দাঁড়িয়ে নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং ক্ষোভকে পুঁজিতে রূপ দিতেই মমতা ব্যানার্জি ফের আন্দোলনের পুরোনো পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
পুনর্বাসনের দাবি ও মদন মিত্রের বিশেষ ভূমিকা
সম্প্রতি রেল কর্তৃপক্ষের তরফে বিভিন্ন স্টেশনের নিজস্ব জায়গা থেকে হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় নিয়মের বেড়াজালে হকারদের বসতে বলায় হকারদের একাংশের মধ্যে ক্ষোভের পারদ চড়ছিল। কালীঘাট সূত্রের দাবি, ফুটপাত ও রাস্তার ধারে ছোটখাটো ব্যবসা করে রাজ্যের বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। বিকল্প পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এভাবে একতরফা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে তাঁদের রুজি-রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এটি কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার এবং মানবিক অধিকারের লড়াই।
দলের এই সংকটের মুহূর্তে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন শাখা সংগঠনের মাথা বদল করেছেন তৃণমূল নেত্রী। কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রকে বর্তমানে হকার বিষয়ক যাবতীয় বিষয় দেখভালের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, মূলত মদন মিত্রের বিশেষ অনুরোধ এবং আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই বুধবারের এই মেগা প্রতিবাদী কর্মসূচিতে সশরীরে অংশ নেন মমতা ব্যানার্জি।