ভয় পেলে পালাবে, আমাদের সাহসী লোক চাই! সমাজবাদী পার্টিতে ভাঙন-তত্ত্ব ওড়ালেন অখিলেশ

ভয় পেলে পালাবে, আমাদের সাহসী লোক চাই! সমাজবাদী পার্টিতে ভাঙন-তত্ত্ব ওড়ালেন অখিলেশ

তৃণমূল কংগ্রেস এবং মহারাষ্ট্রের উদ্ধবসেনার পর এবার জাতীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা শুরু হয়েছে সমাজবাদী পার্টিকে ঘিরে। বিরোধী শিবিরগুলোতে ধারাবাহিক ভাঙনের আবহে এবার উত্তরপ্রদেশে অখিলেশ যাদবের দলেও বড়সড় ফাটলের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে এই সমস্ত জল্পনাকে স্রেফ ভিত্তিহীন গল্প বলে উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। দলের আত্মবিশ্বাস অটুট রেখে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তাঁর দলে কেবল সাহসী যোদ্ধাদেরই প্রয়োজন।

গুঞ্জনের নেপথ্য কারণ ও রাজভরের দাবি

সমাজবাদী পার্টিতে এই ভাঙন-তত্ত্ব প্রকাশ্যে এনেছেন অখিলেশের প্রাক্তন সহযোগী তথা উত্তরপ্রদেশের অপসারিত মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর। তাঁর দাবি, অতীতের বিভিন্ন কেলেঙ্কারির তদন্ত নিয়ে সমাজবাদী পার্টির অনেক নেতাই বর্তমানে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। তদন্তের আঁচ থেকে বাঁচতেই তাঁদের একাংশ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। সমাজমাধ্যমে রাজভর আরও দাবি করেছেন যে, সমাজবাদী পার্টির প্রবীণ নেতা রামগোপাল যাদব সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছেন। এই জোড়া দাবি ঘিরেই মূলত উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে দলবদলের জল্পনা তীব্র আকার ধারণ করেছে।

ভয়ডরহীন লড়াকু খুঁজছেন অখিলেশ

এই রাজনৈতিক গুঞ্জনের কড়া জবাব দিয়েছেন অখিলেশ যাদব। রাজভরের মন্তব্যকে নস্যাৎ করে তিনি জানান, দল এখনও সম্পূর্ণ মজবুত রয়েছে। অতীতের দলবদলের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি বরাবরই ভয় দেখিয়ে বিরোধী দলের সাংসদ ও বিধায়কদের ভাঙানোর চেষ্টা করে। অখিলেশের সাফ কথা, “কেউ ভয় পেলে তিনি পালিয়ে যাবেন। যাঁরা ভয় পাবেন, তাঁরা চলে যাবেন। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে আমাদের এমন লোক দরকার, যাঁরা সাহসী।” অমিত শাহকে দেওয়া চিঠির প্রসঙ্গটিতেও তিনি আমল দেননি, উল্টে তিনি সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি অমিত শাহকেই এই বিষয়ে প্রশ্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন।

এই রাজনৈতিক তরজা ও ভাঙনের গুঞ্জন বাস্তবে রূপ নিলে তা উত্তরপ্রদেশে বিরোধী শিবিরের জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির চাপ এবং দলবদলের এই ধারাবাহিক কৌশল বিজেপির রাজনৈতিক আধিপত্যকে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অখিলেশের এই আক্রমণাত্মক ও অনড় অবস্থান আদতে দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখার এবং দলের অন্দরে থাকা দুর্বল ও সুবিধাবাদী নেতাদের ছেঁটে ফেলার একটি সুচিন্তিত কৌশল হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *