তৃণমূলের ২০ সাংসদের আকস্মিক দলবদল, চরম সমন্বয়হীনতার মুখে এনসিপিআই নেতৃত্ব

তৃণমূলের ২০ সাংসদের আকস্মিক দলবদল, চরম সমন্বয়হীনতার মুখে এনসিপিআই নেতৃত্ব

জাতীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন নাটকীয়তার সাক্ষী থাকল রাজনৈতিক মহল। ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া বা এনসিপিআই (NCPI) দলে একসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সংসদ সদস্য (MP) যোগ দিলেও, সেই বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন স্বয়ং এনসিপিআই-এর শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের ন্যাশনাল অর্গানাইজিং জেনারেল সেক্রেটারি শান্তনু দে সংবাদমাধ্যমের কাছ থেকে প্রথম এই বিপুল দলবদলের খবর জানতে পারেন। প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দলবদলুদের স্বাগত জানানো হলেও, দলের অভ্যন্তরে তীব্র সমন্বয়হীনতা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের গুরুত্বহীন হয়ে পড়ার বিষয়টি এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

যোগদানের নেপথ্য কারণ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল

এই আকস্মিক দলবদলের নেপথ্যে মূলত তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং এনসিপিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা স্তরের গোপন তৎপরতা কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, এনসিপিআই-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিউলি ও উত্তীয় কুণ্ডুর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়ের মতো হেভিওয়েট বিক্ষুব্ধ সাংসদরা এই সিদ্ধান্ত নেন। অথচ, সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক হওয়া সত্ত্বেও শান্তনু দে-কে এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র আভাস দেওয়া হয়নি। শুরুতে এই দলবদল নিয়ে প্রবল আপত্তি থাকলেও, পরবর্তীতে দলের কেন্দ্রীয় অবস্থানের পরিবর্তন ঘটে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দল বড় করার স্বার্থে এবং সাংসদদের আর্থিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতাকে ব্যবহার করে দলের পরিধি বাড়াতে এই যোগদানকে মেনে নিয়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব।

রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সমীকরণ

একসঙ্গে ২০ জন সাংসদের দলবদলের ফলে জাতীয় স্তরে এনসিপিআই-এর শক্তি রাতারাতি বৃদ্ধি পেলেও, এর দূরগামী প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূলের কট্টর বিরোধী এবং ত্রিপুরার মাটিতে ঘাসফুল শিবিরের বিরুদ্ধে লড়াই করা এনসিপিআই-এর পোস্টারে এতদিন ‘দলবদলু মুখ চাই না’ স্লোগান দেখা যেত। ফলে, আদর্শগত এই আকস্মিক পরিবর্তন দলের নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, নতুন আসা সাংসদরা এখনও সাংগঠনিক স্তরে শান্তনু দে-র মতো নেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ বা বৈঠক করেননি। সুদীপ-কাকলিদের পক্ষ থেকে কোনো ফোন না আসা পর্যন্ত তাঁদের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখার কথা জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ শান্তনু দে। এই বিশাল সংসদীয় দলের অন্তর্ভুক্তির পর এনসিপিআই-এর নীতি ও চিন্তাধারায় কতটা পরিবর্তন আসে এবং নতুন বনাম পুরোনো নেতৃত্বের ক্ষমতার ভারসাম্য কীভাবে বজায় থাকে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *