নিরাপত্তা প্রত্যাহার নাকি নিয়মের কড়াকড়ি, মমতার জেড প্লাস ঘিরে নবান্ন-তৃণমূল সংঘাত

নিরাপত্তা প্রত্যাহার নাকি নিয়মের কড়াকড়ি, মমতার জেড প্লাস ঘিরে নবান্ন-তৃণমূল সংঘাত

রাতের অন্ধকারে কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে নিরাপত্তারক্ষী না থাকার অভিযোগ তুলে তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের ফেসবুক লাইভ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। ডেরেকের দাবি, মমতার দীর্ঘদিনের দুই বিশ্বস্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী (পিএসও) স্বরূপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদীকে আচমকা তুলে নিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হলেও নবান্ন স্পষ্ট জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জেড প্লাস’ (জেড+) নিরাপত্তা সম্পূর্ণ অটুট রয়েছে।

সরকারি নিয়ম বনাম ব্যক্তিগত পছন্দ

নবান্ন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বয়স ও সম্মানের কথা মাথায় রেখে তাঁর নিরাপত্তায় যেন কোনও ত্রুটি না থাকে, সেই নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশ মেনেই তাঁর জেড প্লাস ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছে। সমস্যা তৈরি হয়েছে মূলত ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিশেষ অনড় দাবিকে কেন্দ্র করে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, স্বরূপ ও দ্বিবেদী ছাড়া অন্য কোনও পুলিশকর্মীকে তিনি পিএসও হিসেবে গ্রহণ করবেন না। অন্যদিকে নবান্নের দাবি, সরকারি ডিউটি রোস্টার অনুযায়ী নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই অফিসার বদল হয়, সেখানে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে বায়না শোনার কোনও প্রশাসনিক সুযোগ নেই।

অতীতের ছায়া বর্তমানের নিয়মে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রাজনৈতিক অলিন্দে উঠে আসছে একটি পুরনো অধ্যায়। তৃণমূল জমানায় শুভেন্দু অধিকারী যখন বিজেপিতে যোগ দেন, তখন তৎকালীন সরকারের নির্দেশে তাঁর দীর্ঘদিনের দুই বিশ্বস্ত রাজ্য পুলিশের পিএসও-কে রাতারাতি সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাঁদের একজনকে সিআইডি জেরার মুখোমুখি হতে হয় এবং পরে সাসপেন্ডও করা হয়। নবান্ন মহলের একাংশের দাবি, অতীতে শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে যে নিয়ম কার্যকর হয়েছিল, আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যা্যের বেলাতেও সরকারি নিয়ম সেই একই পথ অনুসরণ করছে।

প্রশাসনের তৎপরতা ও প্রভাব

পুলিশ মহলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা একটি মিছিলের বিষয়ে প্রশাসনকে আগে থেকে অফিশিয়ালি কিছু জানানো না হলেও, খবর পাওয়া মাত্রই তাঁর যাতায়াতের পথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সামগ্রিক এই ঘটনায় স্পষ্ট যে, ব্যক্তিগত পিএসও বদল নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মূল নিরাপত্তা বলয়ে কোনও খামতি রাখছে না প্রশাসন। তবে এই ঘটনার জেরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা এবং প্রশাসনিক নিয়মের কড়াকড়ি নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *