ইডির জেরা কাটিয়ে ফের স্পিকারের ডাক, বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিল্লি যাচ্ছেন অভিষেক!

তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহী সাংসদদের ভবিষ্যৎ এবং দলের স্বীকৃতি সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে এবার দিল্লি যাচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার তলবে আগামী ১৯ জুন বিকেল ৫টায় তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন তিনি। এর আগে স্পিকারের ডাক পেলেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জেরার মুখে থাকায় সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি তিনি।
বিদ্রোহী সাংসদদের স্বীকৃতি রুখতে তৎপরতা
লোকসভায় তৃণমূলের একাংশ ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ নিজেদের ‘প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে দাবি করে স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করছেন। এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর যুক্তি, নির্বাচিত দলের বিরুদ্ধে গিয়ে আলাদা পরিচয় দাবি করা সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী এবং তা দলত্যাগ বিরোধী আইনের পরিপন্থী। বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে আলাদা স্বীকৃতি দিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সাংবিধানিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। স্পিকার যাতে এই দাবি কোনোভাবেই গ্রহণ না করেন, সেই কারণেই অভিষেকের এই দিল্লি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্পিকার ওম বিড়লাও স্পষ্ট করেছেন, দুই পক্ষের বক্তব্য না শুনে তিনি কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত নেবেন না।
ইডির জেরায় প্রথম ডাক ফস্কেছিল
এর আগে গত সোমবার দুপুর ২টো নাগাদ স্পিকারের দফতর থেকে ইমেল পাঠিয়ে বিকেল ৪টেয় অভিষেককে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় তিনি কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির দীর্ঘ ১১ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি ছিলেন। ফলে তিনি মেলের উত্তর দিতে বা উপস্থিত হতে পারেননি। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ দ্রুত স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে অভিষেকের অনুপস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করেন। এরপর বুধবার স্পিকারের দফতর থেকে ফের আলোচনার জন্য নতুন করে ডাক পাঠানো হয়। আগামী বৈঠকের পরেই বিদ্রোহী সাংসদদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভবিষ্যৎ অনেকটাই স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।