অন্নপূর্ণা যোজনার তথ্য আপলোডে বাধা দিয়ে চরম জনরোষের মুখে জিয়াগঞ্জের পুরপ্রধান

সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং তথ্য আপলোডে বাধা দেওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভা এলাকা। অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের ফর্ম অনলাইনে তোলার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পুলিশ আটক করেছে পুরসভার পুরপ্রধান প্রসেনজিৎ ঘোষকে। তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতার একাংশের ছোঁড়া ডিমের আঘাতে পরিস্থিতি আরও জোরালো রূপ নেয়, যা স্থানীয় রাজনীতিতে ‘ডিম থেরাপি’ নামে শোরগোল ফেলেছে।
বিক্ষোভ ও আটক পর্ব
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার জিয়াগঞ্জ-আজিমগঞ্জ পুরসভার ভেতরেই চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ ঘোষ ও ভাইস-চেয়ারম্যানকে ঘিরে ধরে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তাঁদের মূল অভিযোগ, অন্নপূর্ণা যোজনায় যাঁরা অফলাইনে আবেদন করেছিলেন, তাঁদের নাম অনলাইনে নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়ায় নিয়মতান্ত্রিক বাধা সৃষ্টি করছিলেন খোদ পুরপ্রধান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জিয়াগঞ্জ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর বুধবার রাতে পুরপ্রধানকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে ক্ষোভ উগরে দেন সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীরা।
দুর্নীতির অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
আন্দোলনকারীদের দাবি, শুধুমাত্র অন্নপূর্ণা যোজনাই নয়, আবাস যোজনার ঘর বণ্টন থেকে শুরু করে একাধিক সরকারি প্রকল্পে নিজেদের ঘনিষ্ঠদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার একচ্ছত্র স্বজনপোষণ চালাচ্ছিলেন এই তৃণমূল নেতা। এই ঘটনার জেরে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যজুড়ে একের পর এক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগে যখন জনমানসে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে, তখন জিয়াগঞ্জের এই ঘটনা স্থানীয় প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। এই আটকের ফলে আগামী দিনে ওই এলাকায় সরকারি প্রকল্পগুলির গতিপ্রকৃতি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।