পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরি, দু’মাসেই বরখাস্তের জেরে প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর

পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরি, দু’মাসেই বরখাস্তের জেরে প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে এফআইআর

পশ্চিম মেদিনীপুরের সবংয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়ার মধ্যস্থতায় ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চাকরি পেয়েও মাত্র দুই মাসের মধ্যে বরখাস্ত হওয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন এক যুবক। সবং থানায় এই মর্মে একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে প্রাক্তন মন্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।

নির্বাচনের আগে লেনদেন ও আকস্মিক ছাঁটাই

অভিযোগকারী সবং বিধানসভা এলাকার বিষ্ণুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা। তাঁর দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর স্ত্রীর চাকরির জন্য মানস ভুঁইয়ার মধ্যস্থতায় শেখ আবু কালান বক্স এবং ভোলানাথ দে নামে দুই ব্যক্তিকে মোট পাঁচ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল। এরপর চলতি বছরের ১ মার্চ তেমাথানী ইরিগেশন বাংলোয় একটি বেসরকারি সংস্থার অধীনে তাঁর স্ত্রী চাকরিতে যোগ দেন এবং প্রথম মাসে বেতনও পান। কিন্তু গত ৬ মে আকস্মিকভাবে তাঁকে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।

মানসিক বিপর্যয় ও তদন্তের দাবি

এই ঘটনার জেরে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম আর্থিক ও মানসিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। একদিকে মোটা অঙ্কের টাকা খোয়ানো এবং অন্যদিকে আকস্মিক চাকরি হারানোর ধাক্কায় ওই নারী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। খোয়ানো অর্থ উদ্ধার ও চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

অভিযোগ অস্বীকার ও রাজনৈতিক আবহ

প্রাক্তন মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়তার সঙ্গে অস্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনও আর্থিক লেনদেন বা চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ঘটনার সাথে তিনি কোনওভাবেই যুক্ত নন, এমনকি এমন কোনও এফআইআর সম্পর্কেও তাঁর কিছু জানা নেই। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা এই বর্ষীয়ান নেতার বিরুদ্ধে এমন সময়ে এই অভিযোগ উঠল, যা স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে নতুন সমীকরণ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *