আর বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে না ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপ, গুণতে হতে পারে কত টাকা

সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর খবর নিয়ে হাজির হল প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম কিংবা জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে এবার বড়সড় বদল আসতে চলেছে। খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আর ব্যবহার করা যাবে না এই মাধ্যমগুলো। ইতিমধ্যে মেটা তাদের এই নতুন পেইড সার্ভিস বা সাবস্ক্রিপশন মডেলের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করে দিয়েছে, যা মূলত ‘প্লাস’ সার্ভিস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে।
ভারতে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং হোয়াটসঅ্যাপের এই প্লাস ফিচারের জন্য ব্যবহারকারীদের প্রতি মাসে খরচ করতে হতে পারে ৯৯ টাকা। তবে নতুন গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে প্রথম ৬ মাস প্রায় ৫০ শতাংশ ছাড়ের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি আরও বেশি ও উন্নত ফিচারের সুবিধা দিতে মেটা ‘ওয়ান প্লাস’ এবং ‘মেটা ওয়ান প্রিমিয়াম’ নামের আরও দুটি উচ্চমূল্যের প্ল্যান পরীক্ষামূলকভাবে চালু করছে, যাদের সম্ভাব্য মাসিক খরচ যথাক্রমে প্রায় ৭৭৫ টাকা এবং ১৯৩৯ টাকা।
বিজ্ঞাপন নির্ভরতা কমানো ও এআই প্রযুক্তির বিশাল খরচ
হঠাৎ কেন মেটার মতো একটি বড় প্রতিষ্ঠানকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হলো, তার পেছনে রয়েছে গভীর বাণিজ্যিক ও কৌশলগত কারণ। বর্তমানে মেটা কো ম্পা নির মোট আয়ের সিংহভাগ, প্রায় ৯৭.৬ শতাংশই আসে সরাসরি বিজ্ঞাপন থেকে। বিশ্ববাজারের এই একক বিজ্ঞাপনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা টিকিয়ে রাখতেই মূলত সাবস্ক্রিপশন মডেলের দিকে ঝুঁকছে তারা।
এর বাইরে অন্যতম বড় কারণ হলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর আধুনিকায়ন। এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় গুগল বা মাইক্রোসফটের চেয়ে মেটা কিছুটা পিছিয়ে থাকায় এই খাতের ব্যাপক উন্নতির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন মার্ক জুকারবার্গ। কিন্তু এআই-এর পেছনে মেটার খরচ হচ্ছে আকাশছোঁয়া। ২০২৬ সালে এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য মেটা রেকর্ড পরিমাণ ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার খরচের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এমনকি ভারতেও রিলায়েন্স কো ম্পা নির সঙ্গে অংশীদারিত্বে গুজরাটের জামনগরে একটি বিশাল এআই ডেটা সেন্টার স্থাপন করেছে তারা। বিশ্লেষকদের মতে, বিজ্ঞাপনের সীমিত আয় দিয়ে এআই-এর এই বিশাল ব্যয়ভার বহন করা আসাম্ভব। ফলে এই বিপুল আর্থিক ঘাটতি মেটাতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা আদায়ের বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে মেটা।
অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ও সম্ভাব্য বাজার প্রতিক্রিয়া
এই নতুন বাণিজ্যিক নীতি মেটার নিজস্ব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। এআই খাতের বিশাল ব্যয় সামাল দিতে প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে তাদের মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছে, যা মেটার ভেতরে এক ধরনের নেতিবাচক পরিবেশ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে এই পেইড প্ল্যান কেমন সাড়া পাবে, তা নিয়ে বাজার বিশেষজ্ঞদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। প্রোফাইল সাজানো বা কে স্টোরি দেখল—এই ধরনের ছোটখাটো ও বিনোদনমূলক সুবিধার জন্য সাধারণ মানুষ প্রতি মাসে টাকা খরচ করতে রাজি হবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে মেটা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এআই-এর প্রাথমিক বিশাল খরচ সামাল দিতে এবং বিজ্ঞাপনের বাইরে নতুন আয়ের উৎস তৈরি করতে এই পেইড প্ল্যানগুলো আপাতত একটি সাময়িক বা টেম্পোরারি ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে।