বাজেট অধিবেশনের আগেই বড় ধাক্কা শোভনদেবের, ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা রেখেই রায় হাইকোর্টের!

বাজেট অধিবেশনের আগেই বড় ধাক্কা শোভনদেবের, ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা রেখেই রায় হাইকোর্টের!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন নাটকীয় মোড় তৈরি হলো। বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় বড় নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের স্পষ্ট নির্দেশ, উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই আপাতত বিরোধী দলনেতা থাকছেন। বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তে আপাতত কোনও হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি আদালত।

আইনি লড়াই ও স্পিকারের সিদ্ধান্ত

ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচনের পর দলের পক্ষে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন দেখিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করেন। বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন। স্পিকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব। শুনানিতে জানা যায়, মূল প্রস্তাবে থাকা বেশ কিছু বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর স্পিকার তদন্তের নির্দেশ দেন এবং বিক্ষুব্ধ শিবিরের প্রস্তাবকে মান্যতা দেন।

দলীয় কোন্দল ও দূরগামী রাজনৈতিক প্রভাব

হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে বাজেট অধিবেশনের ঠিক মুখে চরম অস্বস্তিতে পড়ল শোভনদেব শিবির। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ ফাটল ও নেতৃত্ব সংকটকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। অন্তর্বর্তী কোনও স্থগিতাদেশ না মেলায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান আইনিভাবে সাময়িক বৈধতা পেল, যা বিধানসভার অন্দরে বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদের রণকৌশল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলবে। তবে এই বিতর্কের চূড়ান্ত আইনি মীমাংসা এখনই হচ্ছে না, কারণ আগামী ২৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *