তালিবান শাসিত আফগানিস্তানে একা ভ্রমণ, তরুণী ইনফ্লুয়েন্সারের মুখে লোমহর্ষক অভিজ্ঞতার কথা!

তালিবানি শাসনে আফগানিস্তান ভ্রমণ: চা আপ্যায়ন থেকে নিয়মের কড়াকড়ি— অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন অঙ্কিতা
নিজস্ব প্রতিবেদন: দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভিসা জটিলতা কাটিয়ে তালিবান শাসিত আফগানিস্তানে পাড়ি দিয়েছিলেন অঙ্কিতা নামে এক পর্যটক। তালিবানি জমানায় মহিলাদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণের কথা বিশ্বজুড়ে চর্চিত হলেও, অঙ্কিতার অভিজ্ঞতা ছিল অনেকটাই বৈচিত্র্যময়। তবে সেই অভিজ্ঞতার আড়ালেই উঠে এসেছে কঠোর বাস্তবতার নির্মম সব ছবি।
সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অঙ্কিতা তাঁর সফরের রোমাঞ্চকর ও ভীতিজাগানিয়া অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, পরিস্থিতির চাপে পড়ে একসময় তাঁকে ১৫ জন তালিবান যোদ্ধার মাঝে একাই থাকতে হয়েছিল। তবে নারীদের প্রতি তাঁদের কঠোর আচরণের যে প্রচলিত ধারণা, তার মুখোমুখি হতে হয়নি তাঁকে। উল্টে তাঁর দাবি, তালিবান যোদ্ধারা তাঁকে চা খাইয়ে আপ্যায়ন করেছিলেন।
তবে ব্যক্তিগত স্তরে ভালো অভিজ্ঞতা হলেও, আফগান নারীদের দৈনন্দিন জীবনের নির্মম বাস্তব ও বিধিনিষেধগুলি তাঁকে স্তম্ভিত করেছে। অঙ্কিতা জানান, রেস্তরাঁয় পুরুষদের থেকে নারীদের আলাদা পর্দাঘেরা জায়গায় খেতে হয়; পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট অংশে নারীদের প্রবেশাধিকার নেই বললেই চলে। এমনকি বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র ‘বন্দ-এ-আমির’-এ সকাল ৮টার পর নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন করলেই উঠে আসছে তালিবানদের মানসিকতার চিত্র। অঙ্কিতার কথায়, “ছ’টার পর মেয়েদের পড়াশোনারই অনুমতি নেই, সেখানে বিনোদন কেন্দ্রে তাদের প্রবেশের কথা তালিবানরা কতটা গুরুত্ব দেয়, তা বলাই বাহুল্য।”
ভ্রমণকালে তিনি লক্ষ্য করেছেন, জনসমক্ষে নারীদের চলাফেরার ওপরেও রয়েছে অদৃশ্য বেড়ি। ব্যক্তিগত গাড়িতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নারীদের সামনের আসনে বসার অনুমতি নেই। কোনো পুরুষ গাড়ি চালালে, সেই গাড়ির পেছনের অংশে বা ট্রাঙ্কেও অনেক সময় নারীদের চড়তে বাধ্য করা হয়—এমনকি সেটি খোলা অবস্থায়। তালিবানি শাসনের এই কঠোর ও অদ্ভুত নিয়মগুলোই এখন আফগান নারীদের প্রতিদিনের সঙ্গী।