রেলে বিপুল জোয়ার, চালু হচ্ছে আরও ৯টি বন্দে ভারত স্লিপার! নতুন ট্রেন পাচ্ছে বাংলাও

ভারতীয় রেলের আধুনিকীকরণ এবং যাত্রী পরিষেবা বিশ্বমানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এক বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দূরপাল্লার যাত্রীদের আরামদায়ক ও দ্রুতগতির ভ্রমণ অভিজ্ঞতা দিতে এবার আরও নয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে প্রিমিয়াম ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ এক্সপ্রেস চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে রেল মন্ত্রক। এর আগে হাওড়া-কামাখ্যা রুটে দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি চালু হওয়ার পর ব্যাপক সাফল্য মিলেছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এবার দেশের ব্যস্ততম রুটগুলোকে এই পরিষেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রেলের নতুন দিগন্ত ও সম্ভাব্য রুটসমূহ
রেল সূত্রের খবর অনুযায়ী, এবার মুম্বাই-ব্যাঙ্গালোর রুটে দেশের দ্বিতীয় বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনটি চালু হতে পারে, যার অনুমোদন ইতিমধ্যেই দিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোকে দ্রুত রেল যোগাযোগে বাঁধতে একগুচ্ছ নতুন রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নয়া দিল্লি-মুম্বাই, নয়া দিল্লি-আহমেদাবাদ, নয়া দিল্লি-চেন্নাই, নয়া দিল্লি-সেকেন্দ্রাবাদ, নয়া দিল্লি-পুনে, মুম্বাই-আহমেদাবাদ এবং পর্যটনের প্রসারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নয়া দিল্লি-শ্রীনগর রুট।
পশ্চিমবঙ্গের রেল যাত্রীদের জন্যও রয়েছে বড় সুখবর। হাওড়া-কামাখ্যার পর এবার রাজধানী দিল্লির সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগ আরও মসৃণ করতে ‘নয়া দিল্লি-হাওড়া’ রুটেও বন্দে ভারত স্লিপার চালুর জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে বাংলা আরও একটি অত্যাধুনিক প্রিমিয়াম স্লিপার ট্রেনের উপহার পেতে চলেছে। যদিও এই রুটগুলির আনুষ্ঠানিক সময়সূচি বা ভাড়া সংক্রান্ত চূড়ান্ত ঘোষণা এখনও বাকি রয়েছে।
কারণ ও দূরগামী প্রভাব
এই ব্যাপক সম্প্রসারণের মূল কারণ হলো প্রধান শহরগুলির মধ্যে ক্রমবর্ধমান যাত্রী সংখ্যা এবং দ্রুতগতির নৈশকালীন ভ্রমণের বিপুল চাহিদা। বাণিজ্যিক ও শিল্পনগরী হিসেবে পুনে, আহমেদাবাদ বা সেকেন্দ্রাবাদের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে, যা বন্দে ভারত স্লিপারের মতো প্রিমিয়াম ট্রেনের প্রয়োজনীয়তাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এর প্রভাবে দূরপাল্লার যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। বিশেষ করে রাতের ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীরা বিলাসবহুল ও নিরাপদ সফরের সুবিধা পাবেন, যা বিমান পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা তৈরি করবে। একই সঙ্গে উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব এবং পশ্চিম ভারতের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সুদৃঢ় হওয়ায় দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পর্যটন শিল্পে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে।