তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের এনসিপিআই-তে যোগদান স্রেফ দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর ছক!

তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের এনসিপিআই-তে যোগদান স্রেফ দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর ছক!

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা বিদ্রোহ এবার নয়া মোড় নিয়েছে। দলের একাংশ বিদ্রোহী সাংসদ ত্রিপুরা-ভিত্তিক একটি স্বল্পপরিচিত রাজনৈতিক দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়া (NCPI)-র সঙ্গে মিশে যাওয়ার দাবি করার পরেই জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। তবে এই পদক্ষেপকে স্রেফ ‘দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়ানোর ফন্দি’ বলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়।

আইনের ফাঁক গলার চেষ্টা ও তৃণমূলের পাল্টা কৌশল

দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, দল ভাঙার কোনও বৈধ সুযোগ না থাকলেও দুটি দল আনুষ্ঠানিকভাবে মিশে গেলে সদস্যপদ খারিজের ঝুঁকি থাকে না। সৌগত রায়ের মতে, ঠিক এই কারণেই বিদ্রোহী সাংসদরা একটি অচেনা দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কৌশল নিয়েছেন। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৎপর তৃণমূল নেতৃত্বও। লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ইতিমধ্যেই তলব করেছেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। পাশাপাশি সৌগত রায় এবং মহুয়া মৈত্রের মতো সাংসদরাও স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে দলবদলকারী সাংসদদের পদ খারিজের জোরালো দাবি জানাতে চলেছেন।

দলবদলের পেছনের কারণ ও জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

তৃণমূলের এই ভাঙনের মাত্রা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ইতিমধ্যেই ৫৮ জন বিধায়ক আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করেছেন এবং লোকসভায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে দলের দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদ এনসিপিআই-তে যোগ দিয়ে স্পিকারের কাছে আলাদা বসার জায়গার আবেদন জানিয়েছেন। এই পুরো ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির ‘অপারেশন লোটাস’-কে কাঠগড়ায় তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ।

এই দলবদলের প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী হতে পারে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে, লোকসভায় সীমানা নির্ধারণ বিল (Delimitation Bill)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য শাসক জোট এনডিএ-র দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (প্রায় ৩৬০টি আসন) প্রয়োজন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে সেই বিপুল গরিষ্ঠতা না পেলেও, এহেন গণ দলবদলের মাধ্যমে পিছনের দরজা দিয়ে সেই সংখ্যাতত্ত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে আগামী দিনে দেশের সংসদীয় কাঠামো এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *