চাপের মুখে ইস্তফা! ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন কিয়ার স্টারমার

চাপের মুখে ইস্তফা! ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়লেন কিয়ার স্টারমার

লন্ডন: ব্রিটেনের রাজনীতিতে আচমকা বড়সড় রদবদল! দলের অন্দরে তৈরি হওয়া তীব্র চাপের মুখে পড়ে অবশেষে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন কিয়ার স্টারমার (Keir Starmer)। একইসঙ্গে লেবার পার্টির (Labour Party) প্রধানের পদ থেকেও সরে দাঁড়াচ্ছেন তিনি। সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের সামনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত আবেগঘন মেজাজে নিজের এই চরম সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন স্টারমার।

কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?

রাজনৈতিক মহলের মতে, গত সপ্তাহে একটি বিশেষ নির্বাচনে দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের জয়ের পর থেকেই স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়। বার্নহ্যাম প্রকাশ্যেই তাঁকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলেন।

এই রাজনৈতিক চাপের কথা কার্যত স্বীকার করে নিয়ে স্টারমার এদিন বলেন, “আমার দল এখন প্রশ্ন তুলছে যে, আগামী সাধারণ নির্বাচনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমিই সেরা ব্যক্তি কি না! আমি আমার সংসদীয় দলের উত্তর শুনেছি এবং তা মাথা পেতে নিচ্ছি। দেশের স্বার্থকে সবার আগে রেখেই আমি দলের নেতার পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।”

১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে আবেগঘন বার্তা:

ইস্তফা দেওয়ার আগে সোমবার সকালেই রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান স্টারমার। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন।

বিদায়ী ভাষণে স্ত্রী ভিক্টোরিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন স্টারমার। তিনি জানান, “সুসময় হোক বা দুঃসময়, ভিক্টোরিয়া সবসময় আমার পাশে থেকেছে। দেশের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছাড়ার পর এবার আমি আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজে সময় দিতে চাই— একজন ভালো স্বামী ও একজন ভালো বাবা হতে চাই।”

পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে?

স্টারমার জানিয়েছেন, সেপ্টেম্বরে সংসদের পরবর্তী অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই নতুন নেতা নির্বাচন করতে লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটিকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আগামী ৯ থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন নেতৃত্বের জন্য মনোনয়ন জমা নেওয়া হবে। নিজের উত্তরসূরিকে সম্পূর্ণ সমর্থন জোগানোর পাশাপাশি স্টারমার আশা প্রকাশ করেন, নতুন নেতৃত্ব লেবার পার্টিকে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *