সিসিটিভি ঢেকে শৌচাগারে টাকা পাচার! রাম মন্দিরের অনুদান চুরিতে প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

অযোধ্যার রাম মন্দিরের দানবাক্স থেকে কোটি কোটি টাকা চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা দেশজুড়ে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট (SIT)-এর প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে মন্দিরের ভেতরেই অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে চলা এক চুরির চক্রের বিস্ফোরক তথ্য। এই নজিরবিহীন আর্থিক কেলেঙ্কারির জেরে ইতিমধ্যেই নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন মন্দির ট্রাস্টের দুই শীর্ষ কর্তা চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্র।
সুপরিকল্পিত চুরি ও অভিনব কৌশল
তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে মন্দির উদ্বোধনের পর থেকেই এই চক্রটি সক্রিয় ছিল। টাকা গোনার সময় এক কর্মী সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে আড়াল তৈরি করতেন, আর সেই সুযোগে অন্যজন নগদের বান্ডিল সরিয়ে তা নিজের পোশাকে লুকিয়ে ফেলতেন। কারচুপির আরও একটি পদ্ধতি ছিল বান্ডিলে অতিরিক্ত নোট ঢুকিয়ে রাখা, যা পরে ব্যাঙ্কে যাওয়ার পথে সরিয়ে ফেলা হত। চুরি করা নগদ টাকা প্রথম ধাপে মন্দির চত্বরের শৌচাগারে লুকিয়ে রাখা হত এবং পরে সুযোগ বুঝে বাইরে পাচার করে অভিযুক্তদের মধ্যে ভাগবাঁটোয়ারা করা হত। তদন্তকারীদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে মাত্র এক মাসের কিছু বেশি সময়ের ব্যবধানে অন্তত ৭০ বার এমন চুরির প্রমাণ মিলেছে। নগদ অর্থ ছাড়াও রামলালার উদ্দেশ্যে দেওয়া ভক্তদের বহুমূল্য সোনার গয়নাও চুরি গিয়েছে বলে অভিযোগ।
নিরাপত্তায় গাফিলতি ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের নেপথ্যে উঠে এসেছে মন্দিরের সুরক্ষাব্যবস্থা ও প্রশাসনিক চরম গাফিলতির চিত্র। টাকা গোনার কাজে যুক্ত কর্মীদের প্রতিদিন তল্লাশি না করা, সিসিটিভি নজরদারির অভাব এবং দুর্বল হিসাবরক্ষার সুযোগকেই পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছে অভিযুক্তরা। শুধু তাই নয়, স্বজনপোষণের মাধ্যমে টাকা গোনার দলে নিজেদের আত্মীয়দের ঢুকিয়ে এই চক্রকে আরও শক্তিশালী করেছিল ধৃতরা। চম্পত রাইয়ের গাড়িচালক টিন্নু যাদব-সহ মোট আটজন অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং কয়েকজন ব্যাঙ্ক আধিকারিকের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক অনুমানে প্রায় ৭ থেকে সাড়ে ৭ কোটি টাকা গায়েব হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও, এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে মাত্র ৭০ লক্ষ টাকা। এই ঘটনা একদিকে যেমন মন্দির কর্তৃপক্ষের চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, তেমনি সাধারণ ভক্তদের আস্থাতেও বড় আঘাত হেনেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে ও স্বচ্ছতা ফেরাতে মন্দির ট্রাস্টকে তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, নিরীক্ষা ও নজরদারি ব্যবস্থায় অবিলম্বে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।